- Get link
- X
- Other Apps
আরেকটি বিশ্বকাপ মানেই কে সেরা ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা।কে জিতবে বিশ্বকাপ ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা, এই তর্ক বিতর্ক করতে করতেই চোখের সামনে দিয়ে কাপটি নিয়ে যায় জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা ইতালি। আর ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে হতাশা আরও বাড়িয়ে তোলে। আরও চার বছরের জন্য ওদের হতাশাকে আরো দীর্ঘায়িত করে।
বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে আলোচনা চায়ের কাপে ঝড় তুলছে, তা হলো বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২। শুধু যে আলোচনায় সীমাবদ্ধ এমনটাও নয়, প্রিয় এই দুই দলের ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে চলছে রেষারেষি, এমনকি মারামারিও! ভৌগলিক ভাবে এই দুই দেশ আমাদের থেকে হাজার মাইল থেকে দূরে অবস্থিত। কিন্তু ফুটবল যেন আমাদের অনেক কাছে নিয়ে এসেছে। ব্রাজিল শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২০০২ সালে আর আর্জেন্টিনা সেই ১৯৮৬ সালে, আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর ধরে বিশ্বকাপ জিততে পারে নি। তাই এবারের বিশ্বকাপ জিতা তাদের জন্য অনেকটাই ফরজ হয়ে পরেছে। আর এবারের বিশ্বকাপটি হচ্ছে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। অপরদিকে ব্রাজিল কাপ জিতেনি ২০ বছর।নেইমারের এটা শেষ বিশ্বকাপ, তাই উভয় দলের জন্য এবারের বিশ্বকাপটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসায় সিক্ত এই দুটি দল।অথচ বাংলাদেশের ফুটবলের কয়জনে খোঁজ রাখেন, প্রিমিয়ার লীগে কে চ্যাম্পিয়ন অথবা সাফে আমরা কবে শেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি তা আদৌ কেউ বলতে পারবে কীনা সন্দেহ।
কিন্তু এর শুরুটা কীভাবে?
দক্ষিণ আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল কাপ জিতেছে ৫ বার আর আর্জেন্টিনা মাত্র ২ বার,সেই হিসাবে ব্রাজিলের সমর্থক বেশি হবার কথা কিন্তু হয়েছে উল্টাটা, আমাদের দেশে ব্রাজিলভক্তের থেকে আর্জেন্টাইন সমর্থক একটু বেশি। এর অন্যতম কারণ ম্যারাডোনা আর ৮৬'র বিশ্বকাপ। ৮৬'র বিশ্বকাপ ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিশ্বকাপ।কেননা এই বিশ্বকাপ ছিল ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যের বিশ্বকাপ জয় ও ব্রাজিলের সক্রেটিস,জুনিয়ার,জিকো আর ফ্রান্সের কিংবদন্তি প্লাটিনির শেষ বিশ্বকাপ। বিটিভির কল্যানে বেশকিছু ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।ওই সময় টিভি এত সহজলভ্য ছিল না।খুব কম মানুষের বাসায় টিভি ছিল, একজনের বাসায় টিভি থাকলে আশেপাশের সবাই মিলে সেই বাসায় এসে খেলা দেখতে হতো। মূলত টিভির কল্যানে দর্শকরা ম্যারাডোনার খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক জয়,বিশেষ করে ম্যরাডোনার সেই বিতর্কিত হাত দিয়ে গোল এবং ২য় গোলটিতো শতাব্দীর সেরা গোল হিসাবে বিবেচিত।ইংলিশদের হারিয়ে ফকল্যান্ড যুদ্ধের পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিল আর্জেন্টাইনরা। মানুষ সবসময় শোষিতদের পক্ষে থাকে, তাই আর্জেন্টাইনরাই হয়ে উঠলো শোষিতদের ন্যায়ের প্রতীক। ম্যারাডোনার প্রায় একক নৈপুণ্যে ৮৬ এর বিশ্বকাপ গেলো আর্জন্টিনার ঘরে।এরপর ৯০ এর বিশ্বকাপ ছিল অনেক ঘটনাবহুল। বিলুপ্ত হওয়া কিছু দেশের শেষ বিশ্বকাপ।যুগোশ্লাবিয়া,চেকোশ্লাবিয়া,ইউএসএস এর শেষ বিশ্বকাপ।প্রথম ম্যাচে ক্যামারুনের কাছে হার দিয়ে শুরু হলেও অনেক কষ্টে ফাইনালে উঠে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে জার্মানির কাছে বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে পরাজিত হলেও ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনার সেই মর্মস্পর্শী কান্না সকলের অন্তর ছুয়ে যায়।ওই বিশ্বকাপে ২য় পর্বে ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা।সারা ম্যাচে ব্রাজিলের আধিপত্য থাকা স্বত্তেও শেষ মুহূর্তের গোলে জিতে গেলো আর্জেন্টিনা।
এরপরের বিশ্বকাপগুলো হল আর্জেন্টাইনদের জন্য শুধুই হতাশার।প্রতিটি বিশ্বকাপে তারা আসে ফেভারিট হিসাবে আর সবাইকে হতাশায় ভুবিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
অনেকক্ষন ধরে আর্জেন্টিনা ফুটবল সম্পর্কে কথা বললাম এবার ব্রাজিল নিয়ে কিছু না বললে ভূল হবে।
সর্বাধিক বিশ্বকাপজয়ী দেশ ব্রাজিল। ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়। ফুটবলের মধ্যে যে একটি শৈল্পিক বিষয় রয়েছে তা ব্রাজিলের খেলা না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।ব্রাজিলের প্রতিটি শিশুর জম্মই যেনো হয় ফুটবলার হওয়ার জন্য। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের লীগে ব্রাজিলিয়ান চাহিদা সবথেকে বেশি।বিশ্বের প্রায় সব লীগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের খেলতে দেখা যায়।ব্রাজিলের একজন শিশু জম্মের পর থেকেই তার পরিবার তাকে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন দেখেন।এই জন্য সেখান থেকে এসেছেন পেলে,জিকো,জুনিয়র,রোনালডো,রোনালডিনহো,কাকা,কাফু,নেইমারের মতন ফুটবলার। ব্রাজিল মানেই সাম্বা নৃত্যের দেশ।এক একটি গোল হবে আর গ্যালারিতে সাম্বা নৃত্য তা এক দেখার মতন দৃশ্য।ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নান্দনিকতা বিমোহিত করে সারা বিশ্বকে। তবে ফেভারিট তকমা নিয়েও বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপ হাতছাড়া করে।৮২এর বিশ্বকাপ ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।এক ঝাক তারকা ফুটবলার নিয়েও তারা ব্যার্থ হয় সেবার বিশ্বকাপ জিততে।আর ৮৬ এর বিশ্বকাপে ভালো খেলেও ফ্রান্সের কাছে ট্রাইবেকারে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
আর ৯০ এর বিশ্বকাপ ছিল তাদের জন্য একটি চরম শিক্ষা।বিশেষ করে ২য় রাউন্ডে পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাথে ভাল খেললেও শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার একমাত্র আক্রমণে পরাজিত হয়। শুধুমাত্র সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না দিন শেষে ফলাফলটাই আসল। এই মূলতত্তটাই ব্রাজিলের বোধগম্য হয় ৯৪ এর বিশ্বকাপে এসে। সুন্দর ফুটবলের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে কিছুটা রক্ষাণাত্বক ফুটবল খেলা শুরু করে।যার রেজাল্ট ৯৪ এর বিশ্বকাপ জয়। নিজের রক্ষণকে সামলিয়ে তারপর আক্রমন।এটাই হল ফুটবলের মূলমন্ত্র।
পরিসংখ্যান দিয়ে হয়তো ব্রাজিল আর্জেন্টিনার থেকে অনেক এগিয়ে। কিন্তু আবেগের জায়গাটাতে আর্জেন্টিনা একটু এগিয়ে। কে সেরা তা বিতর্কের কখনও শেষ হবে না।
আমরাও চাই এই বিতর্কের শেষ যেন না হয়। কেননা এই দুটি দলের ভিতর আমরা নিজেদের ছায়া খুজেঁ পাই। আমরা হয়তো কখনও বিশ্বকাপে যেতে নাও পারি।কিন্তু এই দুই দল যেন আমাদের প্রতিনিধিত্ব করতেছে।অতীতের আবাহনী আর মোহামেডানের মতন কেউ ব্রাজিল অথবা কেউ আর্জেন্টিনা।
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment