Friday, August 21, 2026

হোটেল আগ্রাবাদ: চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।

হোটেল আগ্রাবাদ: চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।


হোটেল আগ্রাবাদ এর ফ্রন্ট ডিউ।     ছবি: সংগৃহিত।

হোটেল আগ্রাবাদ—নামটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই হোটেলটি চট্টগ্রামের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পর্যটন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঠিক বছর দুয়েক আগে, ১৯৬৯ সালে হোটেল আগ্রাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের তারকা হোটেল থাকা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম পরিচিত ও মানসম্পন্ন হোটেল হিসেবে আগ্রাবাদ দ্রুত পরিচিতি লাভ করে।আজকের আগ্রাবাদ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। বড় বড় অট্রালিকা, বানিজ্যিক ভবন,হোটেল রেষ্টুরেন্ট, সরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অবস্থিত। প্রায় পাঁচ-ছয় দশক আগে এখানকার চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন আগ্রাবাদ এলাকা এতটা আধুনিক, বিস্তৃত ও জনবহুল ছিল না। গুটি কয়েক বড় ভবন ছাড়া আগ্রাবাদ ছিল খালে বিলে ভড়া ছোট্ট একটা এলাকা। যদিও এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল, তবুও আজকের মতো বিশাল ব্যবসায়িক অবকাঠামো তখন গড়ে ওঠেনি।

স্বাধীনতার আগের চট্টগ্রাম ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট একটি শহর। সেই সময় এমন একটি এলাকায় আধুনিক ও তারকা মানের হোটেল প্রতিষ্ঠা করা ছিল অত্যন্ত সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগ। আর সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হোটেল আগ্রাবাদের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মোহাম্মদ সাবদার আলী।

চট্টগ্রামের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হোটেল আগ্রাবাদও সময়ের পরিবর্তনকে ধারণ করেছে। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়, মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা—সবকিছুরই কোনো না কোনোভাবে সাক্ষী এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার কারণে বিদেশি নাবিক, পাইলট, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কাছে হোটেল আগ্রাবাদ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের আবাসন, খাবার, যোগাযোগ এবং আতিথেয়তার ক্ষেত্রে হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়।


স্বাধীনতার প্রাক্কালে প্রতিষ্ঠিত হোটেল আগ্রাবাদ ছিল তৎকালীন চট্টগ্রামের এক অসাধারণ উদ্যোগ। আজকের ব্যস্ত ও আধুনিক আগ্রাবাদ তখনকার দিনে এতটা বিস্তৃত ও আধুনিক ছিল না। চট্টগ্রামও ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট একটি শহর। এমন একটি সময়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি তারকা হোটেল প্রতিষ্ঠা করা নিঃসন্দেহে ছিল দূরদর্শিতা ও সাহসের পরিচয়।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসও হোটেল আগ্রাবাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময় হোটেলটি চালু ছিল এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানুষের কাছে এটি একটি পরিচিত স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। স্বাধীনতার পর হোটেল আগ্রাবাদ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান তারকা হোটেল হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে।

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান, সম্মেলন ও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের  সঙ্গে হোটেল আগ্রাবাদের নাম জড়িয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বিদেশি অতিথিদের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে হোটেলটি ছিল অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান।

চট্রগ্রামে ক্রিকেটের  অবদান:

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিকাশের ক্ষেত্রেও হোটেল আগ্রাবাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। আন্তর্জাতিক দল কোনো শহরে খেলতে এলে তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আবাসনের ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর দিকে হোটেল আগ্রাবাদ সেই আবাসন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চট্টগ্রাম যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে, তখন এই হোটেলও সেই ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন টেষ্ট স্টাটাস পাবার পর যখন বাংলাদেশে বিদেশী দলগুলো নিয়মিত খেলতে আসা শুরু করলো স্বাভাবিকভাবে চট্রগ্রামে টেষ্ট ভেন্যু পাবার দাবিদার ছিল। কিন্তু বিদেশী দলগুলোর জন্য ভাল আবাসন ব্যবস্থা না থাকলে চট্রগ্রামে আর টেষ্ট আয়োজন সম্ভব হত না।


Hotel Agrabad এ Souls এর পরিবেশনা।

ব্যান্ড শিল্পে হোটেল আগ্রাবাদের ভূমিকা:

চট্টগ্রামের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে হোটেল আগ্রাবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশক থেকে হোটেলটির অনুষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্রিক পরিবেশে বিভিন্ন ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীর পরিবেশনা চট্টগ্রামের শ্রোতাদের কাছে আধুনিক ব্যান্ডসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে সহায়তা করে।

চট্টগ্রামের ব্যান্ডসংগীতের অন্যতম ঐতিহাসিক নাম Souls।দেশের সবচেয়ে পুরাতন Band Souls, তৎকালীন Feelings বর্তমানে নগর বাউল খ্যাত জেমস সহ বিভিন্ন ব্যান্ড এর শো প্রতিনিয়ত Hotel Agrabad এ হত। দেশ বিদেশের অতিথিরা এসব Band শো উপভোগ করতো। তখন Band সঙ্গীত করা কিছুটা কঠিন ছিল। এখনকার মতন এত সহজ ছিল না। Hotel Agrabad গান গেয়ে বিভিন্ন শিল্পীরা নিজেদেরকে শিল্পী সক্তাকে আরও বিকশিত করেছে। একটা হোটেলের সাথে দেশের Band শিল্প বিকাশের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে।

সময়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম বদলেছে। আগ্রাবাদ পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায়। শহরে গড়ে উঠেছে আরও অনেক আধুনিক ও তারকা মানের হোটেল। Radisson Blu Chattogram Bay View, The Peninsula Chittagong Limitedসহ বিভিন্ন হোটেল এখন চট্টগ্রামের আতিথেয়তা শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তবুও নতুনদের ভিড়ে পুরোনো হয়ে যায়নি হোটেল আগ্রাবাদ। বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে আজও এটি অতিথিসেবা, সামাজিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়িক আয়োজন ও বিভিন্ন ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। প্রতিযোগিতা বেড়েছে, অতিথিদের চাহিদা বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য এখনো হোটেলটির অন্যতম বড় শক্তি।


তাই হোটেল আগ্রাবাদকে শুধু একটি হোটেল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এটি চট্টগ্রামের নগরায়ণ, পর্যটন ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিকাশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় ছয় দশক ধরে চট্টগ্রামের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা এই হোটেল আজও বহন করে চলেছে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস।


চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হওয়ায় দেশি-বিদেশি জাহাজের নাবিক,পাইলট এবং বিভিন্ন বিদেশি প্রতিনিধি নিয়মিত এই শহরে আসতেন। সে সময় আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ও আতিথেয়তার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। ফলে বিদেশি অতিথি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্য একটি মানসম্পন্ন হোটেলের প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত বেশি। এই প্রয়োজন পূরণে হোটেল আগ্রাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হোটেল আগ্রাবাদকে তাই শুধু একটি হোটেল হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়কাল, স্বাধীনতা-পরবর্তী চট্টগ্রামের বিকাশ, বন্দরনগরীর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং বিশেষ করে ক্রিকেটের বহু স্মৃতি।

প্রায় ছয় দশকের পথচলায় অসংখ্য দেশি-বিদেশি অতিথিকে স্বাগত জানিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। বহু গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এখানে থেকেছেন, অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সময়ের স্রোতে অনেক প্রতিষ্ঠান এসেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান হারিয়েও গেছে; কিন্তু হোটেল আগ্রাবাদ এখনো দাঁড়িয়ে আছে তার দীর্ঘ ঐতিহ্য নিয়ে।

হোটেল আগ্রাবাদের ইতিহাস আসলে শুধু একটি হোটেলের ইতিহাস নয়। এটি চট্টগ্রামের বন্দর, বাণিজ্য, পর্যটন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, আতিথেয়তা এবং নগরায়ণের পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দীর্ঘ পথচলার গল্প। সেই কারণেই আজও চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোচনায় হোটেল আগ্রাবাদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সঙ্গে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, হোটেল আগ্রাবাদ তাদের অন্যতম। প্রায় ছয় দশকের পথচলায় এই হোটেল শুধু দেশি-বিদেশি অতিথিদের আতিথেয়তাই দেয়নি, বরং চট্টগ্রামের সামাজিক, বাণিজ্যিক, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।

হোটেল আগ্রাবাদ তাই শুধু একটি হোটেলের নাম নয়—এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি অংশ। আমেরিকায় আছে হোটেল ক্যালিফোর্নিয়া হোটেল আর আমাদের আছে হোটেল আগ্রাবাদ।

.

  

Friday, March 20, 2026

Greater Israel থেকে অখন্ড ভারত, টার্গেট পাকিস্তান।

 এক উদ্ভট রাস্ট্রের গল্প:



বিশ্বের বুকে যদি এক বোকা রাষ্ট্রের নাম আসে তবে সবার আগে যে দেশটির নাম আসবে তা হল পাকিস্তান। একদিকে যখন ইরান আক্রান্ত,  আমেরিকা - ইসরাইলী যৌথ হামলায় তাদের বড় বড় মাথা গুলো হারিয়ে তারা যখন নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগতেছে তখন তারা আফগানিস্তানে এক অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ বাধিয়ে রেখেছে। গত ১৬ই মার্চ পবিত্র শবে কদঁর রাত্রে কাবুলের এক হাসপাতালে আক্রমন চালিয়ে প্রায় ৪০০ আফগানকে নিহত করেছে। চিন্তা করে দেখেন রমজান মাসে যখন সবার সংযত থাকা উচিত তখন এই দুই দেশ নিজেরাই মারামারিতে ব্যাস্ত। কী বিচিত্র এদের মন মানসিকতা। সামান্য সীমান্ত সংঘাত থেকে এই যুদ্ধের সূত্রপাত। এই যুদ্ধে মার্কিন ঘুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সার্পোট করেছে। বোকা পাকিস্তান ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই এক অসম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তারা ভূলে গেছে ইরানের পর পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে পাকিস্তান।

ইরান যদি যুদ্ধে হেরে যায় Greater Israel তৈরি হওয়া তখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর পরে ভারত বলবে অখন্ড ভারত তৈরি করতে হবে। আর অখন্ড ভারতের প্রধান বাধা হল পাকিস্তান। ভারতকে সামরিক ভাবে মোকাবেলা করতে পারে শুধু পাকিস্তান। কেননা দক্ষিণ এশিয়াতে শুধুমাত্র ভারত আর পাকিস্তানের আছে পারমাণবিক বোমা।

ইরানের পরে ভারত বলবে পাকিস্তান প্রতিবেশীদের জন্য বিপদজনক, উদাহরন হিসেবে পাক আফগানিস্তানের বর্তমান অযথা যুদ্ধের কথা বলবে।( আমি এই যুদ্ধকে অযথা যুদ্ধ বলবো কেননা এই যুদ্ধে কারও কোন লাভ নেই)। পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা প্রতিবেশী ও সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ, মাথা মোটা পাকিস্তানীরা কখন কোন দেশে আক্রমণ চালিয়ে বসে তার কোন ঠিক নেই। এই অযুহাত দিয়ে ভারত বিভিন্ন আন্তজাতিক ফোরাম ও জাতিসংঘে এই বিষয়ে অভিযোগ তুলবে। আর্ন্তজাতিক আণবিক কমিশন পাকিস্তানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রিকরনের জন্য ইরানের মতন দফায় দফায় মিটিং করবে। আমেরিকা তাদের সেই পুরনো অস্ত্র Sanction ব্যাবহ্নার করবে, এমনিতেই নাজুক পাকিস্তানের অর্থনৈতি আরও নাজুক হবে, মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। পাকিস্তান আবার নিজ দেশের মানুষদের সাথেই মিলে মিশে থাকতে পারে না। নাঁক উচু পাঞ্জাবীরা অন্য জাতিকে নিজেদের অধীনে রাখতে পছন্দ করে। যেমনটি তারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানীদের(বর্তমান বাংলাদেশ) এর সাথে করে পুরো একটি দেশ হারালো। পূর্ব পাকিস্তান হারিয়েও যেন তাদের শিক্ষা হয় নি। বেলুচদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরনের জন্য বেলুচিস্তানের জনগন পাকিস্তানের সাথে থাকতে চায় না, তারাও স্বাধীনতা চায়। বেলুচদের সাথে দুদিন পর পর সংঘর্ষ হয়। তাই পাকিস্তান নিজেই একটি জীবন্ত অগ্নিকুন্ডের উপড়ে আছে। ইরান যদি হেরে যায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন সমস্যা বেড়ে যাবে। বৈদেশিক হস্তক্ষেপে তা আরো বেড়ে যাবে। আলেবানরা বিভিন্ন স্থানে আত্মঘাতী হামলা চালাবে। ভারত এই সুযোগটাই কাজে লাগাবে। পুরো বিশ্বের কাছে বলে বেড়াবে পাকিস্তাননের পারমাণবিক বোমা পুরো বিশ্বের কাছে বিপদজনক। তাই মার্কিন চাপ বাড়তে থাকবে। পশ্চিমারা বলবে .পারমানবিক বোমার জঙ্গিদের হাতে চলে যাবে যা পুরো বিশ্বের জন্য খুবই বিপদজনক। আমেরিকা বলবে পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো তাদের নিযন্ত্রনে আসা উচিত। পশ্চিমারা সবাই আমেরিকার সাথে তাল মেলাবে। পাকিস্তান যদি খাওয়া যায় তাহলে চীন পুরোপুরি মার্কিন নজরে তাই ভবিষ্যৎ চীনের আধিপত্য রোধের জন্য দরকার পাকিস্তান দখল। তাছাড়া চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) বা 'ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড' পরিকল্পনা বাতিলের জন্য পাকিস্তান আক্রমন করা বেশ জরুরী, মোদি তার ইসরাইল সফরের সময় বলেছে Israel হচ্ছে Father land, মূলত Greater Israel প্রতিষ্ঠার পর তৈরি করতে হবে পাকিস্তান হামলার পটভূমি। পাকিস্তানের উপড়ে আফগান। প্বার্শ্বে চির শত্রু ভারত আর বামে দিকে আছে ইরানের পাপেট সরকার ( ইরান হেরে গেলে বসবে পাপেট সরকার)। এই ৩ দিক দিয়ে আক্রমন করলে পাকিস্তানের পক্ষে বেশী দিন টিকে থাকা সম্ভব নয় আর ঘরেতো রয়েছে বেলুচ বিদ্রোহী, এই আফগান যুদ্ধ করে পাকিস্তান তাদের রসদ আস্তে আস্তে ফুরাচ্ছে। বোকা পাকিস্তানীরা . আমেরিকার পরামর্শে যুদ্ধ করে নিজেদের শক্তি হ্রাস করা ছাড়া আর কিছুই না। অখন্ড ভারত নিয়ে কথা বলতেছি তো এই অখন্ড ভারত কী তা একটু বিশ্লেষণ করি, আজকাল অবশ্য কেউ লেখা পড়তে চায় না সবাই reel দেখায় ব্যাস্ত। একটু সময় নিয়ে লেখা গুলো পড়েন কেননা today অথবা tomorrow আমাদের এই সমস্যায় পড়তে হতে পারে। 

“অখণ্ড” অর্থ ভাঙনহীন বা অবিভক্ত, আর “ভারত” মানে ভারতীয় উপমহাদেশ।

অর্থাৎ, “অখণ্ড ভারত” বলতে বোঝায়—একটি অবিভক্ত ও ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় অঞ্চল। 

অখণ্ড ভারতের অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহ

“অখণ্ড ভারত” ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় উপমহাদেশের যেসব দেশকে অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়, সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:

 মূল দেশসমূহ (প্রায় সব ধারণায় অন্তর্ভুক্ত)

India (ভারত)

Bangladesh (বাংলাদেশ)

Pakistan (পাকিস্তান)

Nepal (নেপাল)

Bhutan (ভুটান)

Sri Lanka (শ্রীলঙ্কা)।


ভারতের নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারতের’ এই মানচিত্র বসানো হয়েছে,  ২০২৩ এর ছবি।   ছবি: এএনআই



মানচিত্রে অখন্ড ভারত।

এই দেশ গুলোর মধ্যে পাকিস্তানকে খেয়ে দিলে অন্য দেশ গুলোকে কূটনৈতিক ভাবে চাঁপে রাখলেই হবে।ভারতের জন্য হুমকি শুধুমাত্র পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভূটান এই সকল দেশ ভারতের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ না।

পাকিস্তানকে যুদ্ধ বা কূটনৈতিক ভাবে পরাস্ত করতে পারলে ভারতের আর কাশ্মীর নিয়ে টেনশন করতে হবে না। তাই ভারত তার নিজের ভবিষৎ এর জন্য পথের কাটা পাকিস্তানকে সরিযে দিলেই হবে। ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যাস্ত রাখা হয়েছে আফগানিস্তানের সাথে অযথা যুদ্ধে উস্কে দিয়ে। 

এই লেখা যখন লিখতেছি তখন একের পর এক মাথা হারাচ্ছে ইরার। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খামেনী, এই মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। যেকল শীর্ষ নেতা ইরান হারিয়েছে তা নিচে দেওয়া গেল:

নিহত শীর্ষ নেতাদের তালিকা:

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।

আলী লারিজানি: সাবেক নিরাপত্তা প্রধান ও ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি খামেনির মৃত্যুর পর কার্যত দেশ পরিচালনা করছিলেন।

আলী শামখানি: খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা এবং শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

আজিজ নাসিরাদেহ: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

আব্দোলরাহিম মৌসাভি: সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ।

মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এর কমান্ডার।

মোহাম্মদ শিরাজী: খামেনির সামরিক কার্যালয়ের প্রধান।

গোলামরেজা সোলিমানি: বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান।

ইসমাইল খাতিব: ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী। আর একটু আগে খবরে আসলো ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র জেনারেল নায়িনি নিহত। এভাবে একের পর বড় বড় মাথা হারানোর ইরান স্বাভাবিক ভাবেই দূর্বল হয়ে পড়বে। নেতৃত্বশুন্যতা তৈরি হবে। ইরানের জনগণ এমনিতেই এই কাঠ মোল্লাদের উপড় প্রচন্ড বিরক্ত, একের পর এক মার্কিন অর্থনৈতিক Sanction এ ইরানের অর্থনীতি বলতে কিছুই নেই, বেকারত্ব, উচ্চ মূলস্ফীতি, জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বি হওয়াতে এই শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এমনিতেই খ্যাপা। দুদিন পর পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসতেছে কেননা মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দরকার। এর পরে আছে কে মাথায় হিজাব দিয়েছে নাকি দেয় নাই, কার মাথার চুল দেখা গেছে এই গুলো নিয়ে কাঠ মোল্লা সরকারের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। আর ঐ দিকে ইরানের থেকে আয়তনে প্রায়৭৫ গুণ ছোট ও জনসংখ্যায় ৯ গুন ছোট ইসরাইল মাইক্রোসফট আর গুগলের সহায়তায় AI প্রযুক্তিতে বিশ্বে নাম্বার ১ হয়ে উঠেছে। বলতে গেলে ইসরাইল হাজার মাইল দূর থেকে যাকে টার্গেট করে তাকেই শেষ করে দিচ্ছে। ইরানের অত্যাধুনিক মিসাইল গুলো হয়তো ইসরাইলের আয়রন ডোম ভেদ করে দু একটা আঘাত হানে কিন্তু কয়জন ইসারাইলী শীর্ষ নেতা তো দূরের কথা মধ্যম সারীর নেতাকে তারা আঘাত করতে পেরেছে। আবার ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র গুলো সিরিয়া, জর্ডানের মাথার উপর দিয়ে যাবার অর্ধেক ক্ষেপনাস্ত্র ওরাই ভূপাতিত করে দেয়। অপরদিকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারনে প্রায় ১৭০০ কি.মি. দূর থেকে এসে ইসরাইলী বিমানগুলো তেহরানের অবস্থা বারোটা বাজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। কী সুন্দর ইরানের আক্রমন প্রতিহত করতেছে আরব মুসলিম রাষ্ট্র সমূহ আর ইরানকে মারার জন্য নিজেদের আকাশ সীমা খুলে দিচ্ছে। কী বিচিত্র আমরা। ইরান যেহেতু একা তাই হিজাব টিজাবের পিছনে না লেগে এতদিনে পারমানবিক বোমা তৈরি করে ফেললে কেউ ইরানকে নিয়ে এত ঘাটাবার সাহস পেতনা। উক্তর কোরিয়া কাছে পারমানবিক শক্তি আছে বিধায় কেউ ভয়ে কিমের কাছেও যায় না। ইরান অনেক আগেই পারমানবিক বোমা তৈরি করে ফেলতে পারতো কিন্তু ঐ যে একটা শব্দ, হ্যা এই ফতোয়াটা দিয়েছিলেন সিনিয়র খামেনী। পারমানবিক বোমা নাকি মানব জাতির জন্য ক্ষতিকর। আসল জিনিসই যখন তৈরি করতে নিষেধ করে গেছেন উনি তাহলে পারমানবিক শক্তি নিয়ে এত গবেষণা টবেষণা করে পশ্চিমাদের চক্ষুশীল হবার জন্য তো প্রয়োজন ছিল না। এমনিতেই যখন এত সব Sanction দিয়ে ইরানকে এক ঘড়ে করে দিয়েছে পুরো বিশ্ব থেকে তখন পারমানবিক বোমা তৈরি করেই ফেলতো, জনগণ তো এমনিতেই স্বচ্ছন্দ জীবন যাপন করতে না পেরে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার প্রতি এমনিতেই বিরক্ত পারমানবিক শক্তি অর্জন করলে অন্তত্ব যুদ্ধটা এড়াতে পারতো।এই যুদ্ধ কিন্তু তেলের জন্য নয়। কেননা ভেনিজুয়েলাতে পাপেট সরকার বসিয়ে আমেরিকা ইতিমধ্যে তেলের একটা বিশাল খনি দখল করে ফেলেছে। এই যুদ্ধের মূল থিমই হচ্ছে Greater Israel যা নিয়ে আমি আগেও লিখেছি। ট্রাম্প আবার বাইবেলের বানী শুনিয়ে ধর্মযুদ্ধ বা শেষ যুদ্ধ হিসাবে ঘোষণা করেছে। আরব দেশ গুলো বোকার মতন করে ইসরাইল আমেরিকাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তারা ভুলে গেছে ইরানের পরাজয় মানে Greater Israel এর মানচিত্রে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। ইরান আসলে বোকা যাদের জন্য এত দিন বৈরিতা সৃষ্টি করলো তারাই নিজ ভূমিতে ঘাটি তৈরি করে দিয়েছে ইরানকে মারার জন্য। এর থেকে নিজ অবস্থান থেকেই আমেরিকা ইসরাইলের সাথে প্রকাশ্যে বা গোপনে সম্পর্ক করতো হয়তো ঈদ টা ভালভাবে করতে পারতো। হয়তো স্বাধীন দেশ হিসাবে এটাই তাদের শেষ ঈদ। ও আরেকটু লিখে লেখাটি শেষ করতেছি।কী বোকা ইরান। Greater Israel প্রতিষ্ঠার জন্যে ইসরাইল ও আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছে সেই Greater Israel এর মানচিত্রে কিন্তু ইরান নাম, এই পতাকার তলে আছে পুরো পশ্চিম তীর (West Bank),গাজা স্ট্রিপ,জর্ডান এর কিছু অংশ,লেবানন এর দক্ষিণাংশ,সিরিয়া এর গোলান হাইটস ও কিছু কেন্দ্রীয় অংশ,ইরাক এর পশ্চিমাংশ,সৌদি আরব এর উত্তরাংশ,মিসর এর সিনাই উপদ্বীপ পর্যন্ত। কিছু দিন আগে ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই কথা জোড়ালো ভাবে বলে বলেছে। সব আরব রাষ্ট্র সমূহের বৃহক্তর অংশ এই মানচিত্রে পড়েছে  কিন্তু ইরান কোন অংশ নাই। তাহলে ইরানের প্রয়োজন কী আমেরিকা ইসরাইলের সাথে সংঘাতে জড়ানো। অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের মতন গোপনে বা প্রকাশ্যে আমে- ইসরাইলের সাথে সর্ম্পকে জড়ানো। যে Greater Israel নিয়ে এত লেখালেখি  এই বিষয়ে আরবরা উদ্বেগ না। তার মানে তারা এই পরিকল্পনাকে  মেনে নিয়েছে। বলতে গেলে আরবদের জন্য ইরান যুদ্ধ জড়িয়ে গেছে। আর যাদের জন্য এই যুদ্ধ সেই আরব রাষ্ট্র সমূহ তাদের ঘাটি ব্যবহার করে উল্টা  ইরানকে ধ্বংস করে  দিচ্ছে। কী বিচিত্র এই বিশ্ব, যাদের জন্য করে চুরি তারাই বলে চোর।

বাইবেলে বর্ণিত Greater Israel.



Greater Israel নিয়ে লেখা Link:

 https://ruposhiban.blogspot.com/2025/06/blog-post.html










লেখকঃ রম্য রহিম।

Saturday, January 24, 2026

শীতকাল মানেই শিশুর অতিরিক্ত যত্ন।



"শিশুরা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ফুল, যাদের যত্ন নিলে ভবিষ্যৎ বাগানটা আরও সুন্দর হয়।”


এই সুন্দর বাগানটাকে যত্ন না নিলে ভবিষ্যতে বাগানে আরে ফূলের সুবাস ছড়াবে না। তাই আপনার এই বাগানের ফুলগুলোকে সব সময় যত্ন করে বড় করে তুলতে হয়। 

এখন শীতকাল। শীতকাল মানেই বিভিন্ন পিঠার মজার মজার নাস্তা, সেই সাথে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান তথা বিয়ে শাদীর মাস।কিন্তু আরামের শীতকাল কিন্তু আপনার ছোট সোনা মণিদের জন্য অনেক উদ্বেগ নিয়ে আসে। কেননা শীতের হিমেল ঠান্ডার সাথে আসে অনেক রোগ বিরোগ। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া সহ অনেক রোগ আপনার ছোট সোনা মনিকে আক্রমণ করতে পারে। শীতকাল আসা মানেই  শিশুদের প্রতি আপনাকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।শীতকালে শিশুদের যেসব রোগ বেশি হয়, সহজ করে তালিকা দিচ্ছি 👶

🤧 ১. সর্দি–কাশি। (Common Cold)

নাক দিয়ে পানি পড়া।
হাঁচি, কাশি।
হালকা জ্বর।
কারণ: ঠান্ডা বাতাস ও ভাইরাস সংক্রমণ।

🌡️ ২. জ্বর।

শরীর গরম
কাঁপুনি
খাবারে অনীহা
কারণ: ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।

🫁 ৩. নিউমোনিয়া

শ্বাস নিতে কষ্ট
দ্রুত শ্বাস
বুক দেবে যাওয়া
জ্বর
⚠️ গুরুতর রোগ—দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। ইহা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিশুর মৃত্য ঘটে নিউমোনিয়াতে।

😮‍💨 ৪. ব্রংকাইটিস / হাঁপানি সমস্যা।
দীর্ঘদিন কাশি
শ্বাসকষ্ট
শোঁ শোঁ শব্দ
শীতে সমস্যা বাড়ে

🤒 ৫. ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু)
হঠাৎ জ্বর
শরীর ব্যথা
দুর্বলতা
কাশি
🤢 ৬. ডায়রিয়া। ডায়রিয়া একটি কমন রোগ।
পাতলা পায়খানা
বমি
পানিশূন্যতা
কারণ: সংক্রমণ, অপরিষ্কার খাবার। 
👂 ৭. কানের ইনফেকশন
কান ব্যথা
কান দিয়ে পানি পড়া
জ্বর
🧴 ৮. চামড়ার সমস্যা
শুষ্ক ত্বক
ফাটা ঠোঁট
চুলকানি
👁️ ৯. চোখের ইনফেকশন
চোখ লাল
চোখে পানি/পুঁজ
চুলকানি।

🚨 কখন অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন
৩ দিনের বেশি জ্বর
শ্বাস নিতে কষ্ট
খেতে না পারা
খুব দুর্বল হয়ে পড়া
বারবার বমি বা ডায়রিয়া।

শীষকাল (শীতকাল)–এ শিশুদের রোগ থেকে বাঁচানোর উপায়গুলো সহজ করে বলছি 👶❄️

🧥 ১. ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার উপায়।

শিশুকে সবসময় গরম কাপড় পরান (মাথা, কান, গলা ঢেকে রাখুন)
ভেজা কাপড় সঙ্গে সঙ্গে বদলান।
সকালে/রাতে কুয়াশায় বাইরে নেওয়া এড়িয়ে চলুন

🧼 ২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।
শিশুর হাত নিয়মিত সাবান দিয়ে ধোয়ান
নাক-মুখ পরিষ্কার রাখুন
খেলনা ও ব্যবহৃত জিনিস পরিষ্কার রাখুন।

🍲 ৩. পুষ্টিকর খাবার।
গরম ও তাজা খাবার দিন
ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার দিন (কমলা, লেবু, পেয়ারা)
স্যুপ, খিচুড়ি, দুধ ভালো
খুব ঠান্ডা খাবার/পানীয় এড়িয়ে চলুন।

💧 ৪. পর্যাপ্ত পানি।
শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও পানি খাওয়ান।
গরম বা কুসুম গরম পানি ভালো।

🌬️ ৫. বাতাস ও পরিবেশ।
ঠান্ডা বাতাস সরাসরি যেন না লাগে ধোঁয়া, ধুলাবালি থেকে দূরে রাখুন।
😴 ৬. পর্যাপ্ত ঘুম

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

🩺 ৭. অসুস্থ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান
নিজের মতো ওষুধ দেবেন না।


শিশুর সুস্থতা মানে নিজেরও মানসিক প্রশান্তি। তাই ছোট মণির প্রতি আলাদা যত্ন নেওয়া প্রতিটি মা বাবার দায়িত্ব।


লেখকঃ রম্য রহিম।

Saturday, January 3, 2026

আর যেতে হবে না ডাক্তারের কাছে। ওষুধ আছে আপনার কাছেই।



অসুখ হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে দৌড়াই আর ডাক্তার সাহেবেও এক গাদা ঔষধ লিখে দেয় আর সাথে তো টেষ্ট আছেই। কিন্তু এই ওষুধ গুলোর যে side effect আছে তা কী আমরা জানি। দেখা যায় একটা অসুখ থেকে কিছুটা সুস্থ হলে আরেকটা অসুখে শরীরে বাসা বাধে। কিন্তু এমন কিছু ফল আছে যা খেলে আর নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না। চলুন যেনে নেওয়া যাক এই সব ফলের  নাম ও উপকার সমূহ।

নিচে কোন রোগে কোন ফল উপকারী—সহজ ও পরিষ্কারভাবে দিলাম :

🤕 গ্যাস্ট্রিক :

✅ কলা

✅ আপেল

✅ নাশপাতি


💩 কোষ্ঠকাঠিন্য

✅ পেঁপে

✅ আপেল

✅ নাশপাতি

✅ কমলা


🍬 ডায়াবেটিস

✅ আপেল

✅ নাশপাতি

✅ স্ট্রবেরি

✅ কিউই


❤️ হৃদরোগ / উচ্চ রক্তচাপ

✅ আপেল

✅ কমলা

✅ ডালিম

✅ আঙুর (পরিমিত)

❌ অতিরিক্ত মিষ্টি ফল


🩸 রক্তস্বল্পতা (হিমোগ্লোবিন কম)

✅ ডালিম

✅ আপেল

✅ খেজুর

✅ কিশমিশ


🤧 সর্দি-কাশি

✅ লেবু

✅ কমলা

✅ আমলকি

❌ ঠান্ডা ফল বেশি


🦴 দুর্বলতা / ক্লান্তি

✅ কলা

✅ আম

✅ খেজুর

✅ আপেল


🧠 স্মৃতিশক্তি কম

✅ আমলকি

✅ আপেল

✅ ব্লুবেরি


👁️ চোখের সমস্যা

✅ আম

✅ পেঁপে

✅ কমলা


🧴 ত্বকের সমস্যা

✅ কমলা

✅ লেবু

✅ স্ট্রবেরি

✅ ডালিম


⚖️ ওজন কমাতে

✅ আপেল

✅ নাশপাতি

✅ তরমুজ

✅ কিউই


💧 কিডনি / প্রস্রাবের সমস্যা

✅ তরমুজ

✅ ডাবের পানি

✅ আনারস

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ কথা

এত সব ফল মনে করে সব সময়  মনে রাখা আর খাওয়া সম্ভব নয়। উপরের লিষ্টে দেখবেন আপেলের নাম বারবার আসতেছে। তাই রোজ একটা করে আপেল আর কলা খাবেন। অনেক সময় পকেটে বাড়তি টাকা থাকলেই আমরা হোটেলে গিয়ে গ্রিল অথবা ঝাল জাতীয় খাবার খাই। এসব খাবার পরিহার করে ঐ টাকা দিয়ে ফল কিনে খাই তবে সুস্থ থাকবে শরীর ও মণ। আজ এই পর্যন্ত।


লেখকঃ রম্য রহিম।



Friday, December 19, 2025

ভাসানী থেকে ওসমান হাদীঃ

 ভাসানী থেকে ওসমান হাদীঃ


  


আজ হঠ্যাৎ করেই একটা লেখা না লিখে পারলাম না। সদ্য প্রয়াত ওসমান হাদীকে নিয়ে। আমি সাধারণত রাজনৈতিক লেখা লিখি না। কিন্ত ওসমান হাদীর সাথে এই দুঃখ বিদায়ক ঘটনার পর না লিখে পারলাম না। গত ১৮ই ডিসেম্বর তিনি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। অত্যন্ত মেধাবী এই জুলাইয়ের সম্মুখ সারীর  যোদ্ধা মৃত্যর আগে পর্যন্ত ছিলেন আপষহীন, আগ্রাসন বিরোধী ।

আমরা সবাই মাওলানা ভাসানী সম্পর্ক জানি, অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ, আপোষহীন ও ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী একজন জননেতা ছিলেন তিনি। চীনারা ডাকতো উনাকে রেড মাওলানা বলে।পাকিস্তান শাসন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানী শাসন গোষ্ঠী আর দেশ স্বাধীনতার পর ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সব সময় সোচ্চার। ফারাক্বা বাধ নির্মানের বিরুদ্ধে তার আন্দোলনের কথা ভুলবার নয়। অধিকারবঞ্চিত, নিপীড়িত ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া এই জননেতা জাতীয় সংকটমুহূর্তে জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সাদাসিধে জীবনযাপন, নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। শোষণমুক্ত, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তার ভূমিকা এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ভাসানীর সাধারণ জীবন যাপন।

কখনও কোন অন্যায়ের সাথে মাথা নত করেননি তিনি। কোন লাভের আশায় তিনি রাজনীতি করেন নি। 'ওরা কেউ আসেনি' এটা ছিল তার একটি বিখ্যাত উক্তি। ১৯৭০ সালে দেশের উপকূলে বিশেষ করে ভোলাতে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়় হয় পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে যে অবহেলা করে তা নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য তার এই মন্তব্যটি কিন্তু পরবতী ৭০ এর নির্বাচনে বেশ বড় ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের মৃত্য ঘটে।যা 'ভোলা সাইক্লোন' নামে পরিচিত। এত বড় দূর্যোগের পরও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কেউ দেখতে আসে নি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন কালে তার বিখ্যাত মন্তব্যটি করেন। ভাসানী এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি পাকিস্তান ও ভারত কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে ছাড়েন নি। বলতে গেলে বাংলাদেশ স্বার্থ বিরোধী যে কোন কর্মকান্ডে তিনি ছিলেন সোচ্চার। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন, সফেদ পাঞ্জাবী ও একটি লুঙ্গি ছিল প্রিয় পোষাক।

ইনসাফ ভিক্তিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। সবার কাছে তাই তিনি মজলুম জননেতা নামে পরিচিত।

ফারাক্বার ঐতিহাসিক লং মার্চ।

কেন সে এই নির্মমতার শিকার হল আর মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর সাথে তার কী সম্পর্ক তা নিয়ে আজ এই লেখা। লেখার শিরোনামই ছিল ভাসানী থেকে হাদী। হাদীর মৃতার সাথে ভাসানীর কী সম্পর্ক।

জুলাই ২৪শের পর টিভিতে টকশোতে একজন অল্প বয়সী ছেলেকে প্রায়ই সাহসী মন্তব্য করতে দেখা যায়। কাজের ব্যাস্ততার জন্য কোন কিছু আর ওভাবে দেখা হয় না। ১২ ই ডিসেম্বর হঠ্যাৎ শুনলাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মূখপাত্র ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল টিভিতে শুনতে পেলাম তিনি আর আমাদের মাঝে নাই। আজ সারাদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে হাদীর বিভিন্ন বক্তব্য দেখলাম। হাদীর কথা গুলো শুনে আমার সেই মাওলানা ভাসানীর কথা মনে পড়লো। মাওলানা ভাসনীর মতই তাকে কাউকে ছাড় দিতে দেখলাম না। যে দলের লোক হউক না কেন দেশের স্বার্থ বিরোধী যে কোন বিষয়ে তার সাহসী কন্ঠস্বর শুনে মনে পড়ে গেল মাওলানা ভাসানীর কথা।তাকে নিয়ে আর বিশেষ কিছু বলবো না, আসলে আর কিছু লিখতেও ইচ্ছে করতেছে না। শুধু বলবো আমরা আরেকজন মাওলানা ভাসানীকে হারালাম। মাওলানা ভাসানীর মৃত্যর পর আমরা ওনার মতন নেতা আর পাই নি। হাদীর ভিতর উনার সেই ছায়া দেখতে দেয়েছিলাম। খুব অল্প সময়ের ভিতর তিনি পেয়েছিলেন অনেক জনপ্রিয়তা।

 হাদীর মৃত্যর তার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে আমি সত্যিই অবাক। হাদীর মৃত্যর পর তার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে বুঝলাম আমাদের দেশে একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক নেতার বড়ই অভাব।ঘাতকরা একজন হাদীকে হত্যা করলেও লক্ষ লক্ষ হাদীকেই জন্ম দিয়ে গেছে। ওপাড়ে ভাল থাকবেন প্রিয় ওসমান হাদী ভাই।

টেবিল ক্লকে বিভিন্ন ভূমিকায় ওসমান হাদী।






Tuesday, December 16, 2025

বদলে যাচ্ছে চাকরির ধরন, কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে লাভ হবে ভবিষ্যতে?


ড়াশোনা করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চলে সে। ছোট বেলা থেকে আমরা এই কথা গুলো শুনে আসতেছি। কিন্তু বর্তমান চিত্র অনেকখানি পাল্টে গেছে। এখন শুধু পড়া লেখা করলেই হয় না, জানা থাকতে হবে বাস্তব ভিক্তিক প্রযুক্তি জ্ঞান। AI এর যুগে মানুষের জব মার্কেট অনেকটাই প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে। ব্রিট্রিশ আমলের পড়ালেখার System এখনো আমাদের দেশে বিদ্যমান। পড়া লেখা করে কেরানী হয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকার যে মন মানসিকতা তা এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যাবসার ধরণ পাল্টেছে তাই চাকরির বাজারও ভিন্নতা এসেছে।সময়ের সাথে সাথে দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। ছেলে মেযেদের প্রায়ই দেখি BBA, MBA Complete করে। কিন্তু এত সংখ্যক ছেলে মেয়ে পাশ করে চারকরিটা কোথায় করবে। যে বিপুল সংখ্যক ছেলে মেয়ে পাশ করে সে অনুযায়ী চাকরী বাজারতো বাড়তেছে না। এই বিপুল সংখ্যক ছেলে মেয়ে হতাশ হয়ে এক সময় হতাশায় ভুগে।কেউ কেউ কম বেতনে চাকুরীতে ঢুকে পড়ে। কেউ বাইরে যাবার প্রস্তুতি নেয়।তাহলে এত টাকা পয়সা খরচ করে কী লাভ হল। যদি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তি ও বাস্তব নির্ভর পড়া লেখা করতো তা হলে job মার্কেটই আপনাকে খুজতো।
তাই শুধু টাকা খরচ করে প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না বর্তমান চাকরি বাজারের সাথে সমন্বয় করে সঠিক পড়ালেখার সাবজেক্ট বেছে নিতে হবে যার মাধ্যমে Job Market এ আপনি হবেন most valuable person, তাই আজ এই নিয়েই এই Article।

গার্মেন্টস বা বায়িং হাউসের মার্চেন্ডাইজার: এক সময গার্মেন্টস job শুনলে সবাই নাক ছিটকাতো আর এখন যোগ্যতা না থাকলে এই সেক্টরে চাকরি পাওয়াটাও বেশ কষ্টকর। তাই এই সেক্টর রিলেটেড পড়ালেখা ও Course জানা থাকলে আর পিছনে তাকাতে হবে না। এই সেক্টরে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন পদ হল মার্চেন্ডাইজার। একজন মার্চেন্ডাইজার হলেন এমন একজন পেশাদার দক্ষ ব্যক্তি যিনি কোনো পণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ ও বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করেন, যেখানে তিনি বায়ারের সাথে যোগাযোগ, উৎপাদন পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পেশায় ভালো ক্যারিয়ার গড়তে ইংরেজি দক্ষতা ও কম্পিউটার জ্ঞান অপরিহার্য, এবং এটি RMG সেক্টরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়াও RMG sector এ Pattern Maker এ রয়েছে বিশেষ চাহিদা। এই সকল লাইনে পড়ালেখার জন্য রয়েছে Institute of Fashion & Technology (BIFT) ও Chattogram BGMEA University of Fashion and Technology - CBUFT এখান ডিপ্লোমা বা স্নাতক Complete করতে পারেন।
ডিজিটাল যুগে বদলাচ্ছে চাকরির ধরন। বিশ্বজুড়েই ঘটছে এই পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কৃত্রিম মেধার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। যা আগামী দিনগুলিতে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আর তার ফলেই আগামী ১০ বছরে  কর্মক্ষেত্রের সামগ্রিক চিত্রও বদলে যাবে অনেকখানি। চাহিদা বাড়বে কিছু বিশেষ কোর্সের। যা এখনই বোঝা যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনে সেরকম কিছু কোর্সেরই সন্ধান রইল.

ডেটা সায়েন্স এবং অ্যানালিটিক্স:

বর্তমানে তথ্য বা ডেটাকেই মূলধন হিসাবে বিচার করছে একাধিক বেসরকারি এবং বহুজাতিক সংস্থা। ফলে চাহিদা বাড়ছে ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং ডেটা অ্যানালিস্টের। তাই নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু হয়ে গিয়েছে ডেটা সায়েন্স এবং ডেটা অ্যানালিসিস কোর্স। মূলত নানা তথ্য ঘেঁটে দেখা, তা বিশ্লেষণ করা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকগুলি কী ভাবে খতিয়ে দেখা যায়, তারই পাঠ দেওয়া হয় কোর্সগুলিতে।

 আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, জেনারেটিভ এআই:

কৃত্রিম মেধার ব্যবহার এখন কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য সীমিত নয়। ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্বাস্থ্য— সমস্ত ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ চোখে পড়ার মতো। মেশিন লার্নিং এবং জেনারেটিভ এআই— কৃত্রিম মেধারই একটি অংশ। চাকরিক্ষেত্রে এখন মেশিন ইঞ্জিনিয়ার এবং এআই বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাড়ছে এই সমস্ত কোর্স পড়ার গুরুত্বও।

 সাইবার সুরক্ষা:

বর্তমানে টাকা লেনদেন থেকে তথ্য মজুত করা— সমস্ত কিছুর জন্যই নেট মাধ্যমই ভরসা। কিন্তু মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, দুষ্কৃতীরা সাইবার হানাদারি চালিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। খালি হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। চ্যালেঞ্জের মুখে রাষ্ট্রের সুরক্ষাও। তাই কী ভাবে সাইবার মাধ্যমে সব তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, তার জন্য পড়ানো হচ্ছে সাইবার সুরক্ষার কোর্স। সংস্থাগুলিতে সাইবার বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়ছে।

 ডিজিটাল মার্কেটিং:

এখন নিজস্ব কোনও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে মানুষের কাছে তুলে ধরা জন্য ভরসা করতে হয় ডিজিটাল মাধ্যমের উপর। এমনকি অতিপরিচিত সংস্থাগুলিও ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়। কারণ, পণ্য বিপণনের জন্য এই মাধ্যম বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই নানা প্রতিষ্ঠানের তরফেও পড়ানো হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের নানা খুঁটিনাটি।

পরিবেশবিদ্যা বা পরিবেশ বিজ্ঞান:

পরিবেশ বিশেষজ্ঞেরা আগেই জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে বাঁচতে সুস্থায়ী উন্নয়নই লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর তাই বিশ্বের নানা দেশে শুরু হয়ে গিয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা আলোচনা। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও চালু হয়েছে পরিবেশ সংক্রান্ত একাধিক কোর্স।

উল্লিখিত কোর্সগুলি ছাড়াও ইউআই বা ইউএক্স ডিজ়াইন, সাপ্লাই চেন অ্যান্ড লজিস্টিক্স ম্যানেজমেন্ট, হেল্‌থকেয়ার টেকনোলজি, প্যারামেডিক্যাল, এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোর্সের চাহিদাও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে চাকরির ধরণ। তাই উপরোক্ত বিষয়ে পড়ালেখা করলে Job Market আপনি পিছিয়ে পড়বেন না।


লেখক: রম্য রহিম।

Saturday, December 13, 2025

একটা মশার আত্বকাহিনী:

 


একটা মশার আত্বকাহিনী:

আমি একজন মশা। মশা হয়ে এই পৃথিবাতে এসেছি। আয়তনে আমরা অতি ক্ষুদ্র, মাত্র ২ মিলিগ্রাম ওজনের প্রাণী আমরা। এই ধরনীতে আমাদের সংখ্যা কত তার কোন হিসেব নেই। প্রতিদিন আমাদের মশকসংখ্যা বাড়ে আবার কমে। বলতে গেলে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। এই ধরনীর মানুষেরা আমায় বেশ ভয় পায়। আমাদের মারার জন্য কয়েল, স্প্রে,কত কিছু ব্যাবহ্নার করে কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হয় না। আমাদের হাতে কত মানুষ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে তার কোন হিসাব নেই। কুইনাইন নামক ওষুধ আবিষ্কারের পূর্বে একটি সময় আমাদের আমাদের ছড়ানো ম্যালেরিয়া রোগে কোটি কোটি লোকের প্রাণ গেছে। এখন অবশ্য ডেঙ্গু নামক রোগ বিস্তারে আমরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করতেছি। এই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কত হাজার হাজার লোকের প্রাণ গেছে তার কোন ইয়াক্তা নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ  ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কেউ সুস্থ হচ্ছে আবার কেউ হচ্ছে না। মানুষের রক্ত পান করতে আমাদের খুব ভাল লাগে। সন্ধার সময় পড়তে বসলে কানের সামনে আমাদের গান শুরু হয়ে যায়, সাধারনত মানুষের কানের সামনে গান শুনাতে আমাদের বেশ ভাল লাগে। এই গানের অবশ্য সুরকার আর গীতিকার বলে কেউ নেই। আমাদের জম্ম ময়লা ডোবা, নালা,জমে থাকা ফুলের টব বা বাটিতে। আমাদের বংশ বিস্তারে মানুষের সহযোগীতা ভুলবার নয়। ওহ একটা কথা লিখতে ভূলে গেছি আমাদের ভিতরে স্ত্রী  মশারাই শুধু মানুষের রক্ত পান করে অর্থ্যাৎ পুরুষ মশারা নীরিহ। এই লেখাটা যখন লিখতেছি বেশ কয়েকটা মশা আমার কানের সামনে এসে তাদের গান শুনিয়ে গেছে। এই পৃথিবী প্রানের উৎস যতদিন থাকবে ততদিন মশাও ততদিন থাকবে। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী অথচ কোন দেশ আমাদেরকে জাতীয় প্রাণী বলে ঘোষণা দেয় না, বাঘ, সিংহ, হরিণ ইত্যাদি প্রাণীকে প্রায় সবদেশ জাতীয় পশু বলে সিলেক্ট করে ৷ অথচ আমরা বরাবর অবহেলিত। আজ এই পর্যন্ত।


লেখক :  জিল্লুর রহমান।




Wednesday, October 1, 2025

অতিরিক্ত ওজন কমাঁনোর উপায়।



মানুষ চায় নিজেকে ফিট ও পরিপাটি রাখতে। অতিরিক্ত ওজন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, স্থলকায় স্বাস্থ যেমন মানুষকে দেখতে অসুন্দর দেখায় ঠিক তেমনি আশে পাশের মানুষদের কাছে কথাও শুনতে হয়। স্থলকায় শরীর নিয়ে যেমন হাটাচলা সমস্যা ঠিক তেমনি শারীরিক জটিলতার পড়তে হয়। আমি নিজেও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে বেশ সমস্যায় আছি। তাই আজ এই বিষয়ে লেখা।


ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিততা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কার্যকলাপ। নিচে কয়েকটি কার্যকর উপায় দেওয়া হলো—


🥗 খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: খাবার দেখলেই জিভে জল চলে আসলো আর ঝাপিয়ে পড়লাম এই চিন্তা পরিহার করতে হবে। চর্বি যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। একবারে না খেয়ে কিছুক্ষণ বাদে ফলমূল খান। ফল কিন্তু শরীরের জন্য খুবই ভাল। প্রতিদিন একটা করে আপেল  বা পেয়ারা খাবেন। আপেলে আছে ভিটামিন C, ভিটামিন A, ভিটামিন K, পটাশিয়াম, ও আঁশ (ফাইবার) রয়েছে।কম ক্যালোরি ও আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় আপেল খেলে পেট ভরা অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া কমে।সকালে নাস্তার সাথে বা দুপুরে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।শাকসবজি ও ফল বেশি খান – এগুলো ফাইবার সমৃদ্ধ, ফলে ক্ষুধা কম লাগে।ছোট ছোট খাবার খান – দিনে ৪–৫ বার হালকা খাবার খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

শারীরিক কার্যকলাপ:🏃🏻🚴🏻‍♀️

নিয়মিত ব্যায়াম – প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন।হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার – এগুলো ক্যালোরি বার্ন করে। সকাল বেলা হাটা খুবই উপকারী। যারা সকালে হাটতে পারবেন না তারা অফিস থেকে বাসায় আসার আগে একটু দূরে গাড়ি থেকে নামবেন। রিক্সায় না উঠে হেটে হেটে বাসায় আসুন দেখবেন শরীরটা কেমন ফিট লাগবে।

জীবনধারায় পরিবর্তন:

পর্যাপ্ত ঘুম – ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ক্ষুধা বাড়ে। সব সময় টেনশন মুক্ত থাকবেন।

নিয়মিত লেবু পানি খান:🍋

লেবু পানি খুবই সহজলভ্য ও উপকারী একটি পানীয়। এর অনেক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে।লেবু পানি  ভিটামিন C এর ভালো উৎস। লেবু পানি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে।খাওয়ার আগে বা সকালে খালি পেটে লেবু পানি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।লেবুর সাইট্রিক এসিড চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং পানি পেট ভরা অনুভূতি দেয়।এছাড়া লেবু পানি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে, ফলে লিভার ভালো থাকে।

প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন – ভাজা-পোড়া, ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংক কমাতে হবে।

চিনি ও মিষ্টি নিয়ন্ত্রণ করুন – মিষ্টি খাবার ও পানীয় ওজন বাড়ার প্রধান কারণ।

প্রোটিন বাড়ান – ডিমের সাদা অংশ, মুরগি, মাছ, ডাল খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন 🚭 এগুলো শরীরের ক্ষতি করে ও ওজন কমাতে বাঁধা দেয়।


❤️ তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে (প্রতি মাসে ২–৩ কেজি) কমানো সবচেয়ে নিরাপদ।

ওজন কমানো একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, হুট করে ওজন কমানো সম্ভব নয়। বিভিন্ন পক্রিয়ার মাধ্যমে আস্তে আস্তে ওজন কমাতে হবে। আর  আমি নিজেও মানুষকে উপদেশ দিতে গিয়ে শুয়ে শুয়ে এই লেখাটি লিখতে গিয়ে একটু ওজন বাড়িয়ে ফেললাম।


লেখক: রম্য রহিম।









Saturday, September 20, 2025

বুফেতে বেশি খাওয়ার উপায়।


খাখাবারগুলো যেন আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।

খেতে কেনা ভালোবাসেন, আর বুফের নাম আসলে জিভে পানি চলে আসে। চোখের সামনে এত এত খাবার, কোনটি ছেড়ে কোনটি আগে খাবেন সেই ভাবনায় সবাই পড়ে যায়। কিন্ত বুফে খেতে গিয়ে কোন কিছুই যেন গলা দিয়ে ঢুকে না। খেতে গেলে খরচ অনুযায়ী যথেষ্ট পরিমাণে খেয়ে আসতে পারেন না? অনেকে এই সমস্যায় পড়েন। তারা বুফে খেতে গিয়ে ভরা পেট নিয়ে উদাস হয়ে ফিরে আসেন। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কীভাবে বুফে থেকে আপনার টাকা উসুল করে পর্যাপ্ত খেয়ে আসতে পারবেন তা নিয়েই এই লেখা। 

তাই খাওয়ার আগের বুফে খাবারের  প্রস্তুতি থেকে শুরু করে  তৃপ্তি সহকারে খেতে নিশ্চিত করতে চট করে লেখাটি পড়ে ফেলুন। 


বুফে খাবেন দুপুরে, রাতে নয়।🧆

বুফেতে দুপুরে খাওয়াই বেশি লাভজনক। কেননা রাতে বেশী খাবার খাওয়া যায় না। দুপুরে খেলে শুধু বেশি খেতে পারবেন তা নয়, সারা দিন ধরে হাঁটাহাঁটির কারণে খাবার হজমও হবে সহজে।বুফে শুরু হয় দুপুর ১২.৩০ থেকে। তাই ঠিক সময়ে বুফেতে গিয়ে উপস্থিত থাকবেন। এতে আস্তে ধীরে খাবার শুরু করা যায়।


প্লেট ভর্তি করে খাবার নিবেন না।


অল্প করে নিন :🧆

প্রথমবারেই বেশি না নিয়ে অল্প করে নিন। ভালো লাগলে আবার নিতে পারেন। এতে খাবার অপচয় হয় না। অনেকেই এক সাথে এক সাথে অনেক খাবার নিয়ে ফেলে কিন্তু পড়ে কিছুই খেতে পারেনা। এতে খাঁবার নষ্ট হয়। সাধারণত বুফেতে চালাকী খাবারে ঝাল ও লবনের পরিমাণ কম দেয়। খাবারের স্বাদ কম হলে খাবারও বেঁচে যাবে।খাওয়ার শুরুতে অল্প অল্প করে কয়েক পদ খাবার নেবেন। তেলেভাজা খাবারের পরিবর্তে গ্রিল করা অথবা সেদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রথমেই মিষ্টি আইটেম ভুলেও খাবেন না।বুফেটে প্রথমে সালাদ, স্যুপ, ফিস ফিনগার, মমোস, কেসোনেট সালাদ  ইত্যাদি হাল্কা আইটেম গুলো খাবেন। খাবেন আর বন্ধুদের সাথে গল্প করবেন, এতে খাবারটাও হজম হবে, বুফেটে ভুলেও একা যাবেন না, যাবেন বন্ধুদের সঙ্গে। একা খেতে নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগবে না। খাবেন আর বন্ধুদের সাথে গল্প করবেন। কেননা কথা বলার সাথে সাথে খাবার হজমও হবে, এ ছাড়া কোন খাবার খেতে ভালো হয়েছে সে বিষয়ে বন্ধুদের মতামতও পাবেন। খাবার খাওয়ার পর একটু হাটবেন। এতে এক প্রকার ব্যায়ামও হয়ে গেল।আর সব কিছু অল্প পরিমাণ নিবেন, অনেকেই প্লেট ভর্তি করে খাবার নেয় পরে কিছুই খেতে পারে না। এর পরে মেইন আইটেমে আক্রমণ করবেন। মেইন ডিসে সব একসাথে আনবেন না। অনেকেই প্লেট ভর্তি করে মাছ, বিফ, চিকেন সব এক সাথে নেয়, পরে কিছুই খেতে পারে না, কেননা সব আইটেম একসাথে নিলে খাবারের স্বাদই পাবেন না, কোন খাবারের কী স্বাদ তাই বুঝবেন না, তাই একটা আইটেম নিবেন তাও অল্প পরিমাণ, বিফ অথবা মাটন নিবেন সাথে নিবেন রুটি, ভাত না নিলে ভাল।, এরপরে চিকেন তবে বাসায় সব সময় চিকেন খাই, তাই এই আইটেমটা বাদ দিলে ভাল হয়,মাছ আইটেমের ভিতরে প্রন বা চিংড়ি আইটেমটা বেশ মজার হয়, তাই এটা বেশী করে নিতে পারেন।একেকটা রেষ্টুরেন্টে একেক রকম মাছের আইটেম থাকে, লইট্র্যা ফ্রাই, রুই মাছ, কোরাল মাছে, রুঁপচাদা ফ্রাই ইত্যাদি আইটেম থাকে, আপনি যে মাছ পছন্দ করেন প্লেটে শুধু ঐ মাছের আইটেম কয়েক পিছ নিবেন সাথে সামান্য ভাঁত নিবেন। ভুলেও এক প্লেটে বিভিন্ন আইটেম নিবেন না, বুফেটে সবচেয়ে বড় ভূল করে এক প্লেটে অনেক আইটেম নেওয়া, এতে কোন খাবারের স্বাদ বুঝা যায় না, বরং খাবার গুলো নষ্ট হয়, আবার প্লেট ভর্তি করে খাবার নিবেন না। অল্প পরিমাণে নিবেন ভাল লাগলে আবার নিবেন। আপনি এত টাকা খরচ করে বুফে খেঁতে এসেছেন, তা যদি উসূল করতে না পারেন তা হলে কী করে হয় বলেন। অনেকে বুফেটে পানি খায় না, ভাবে পেট ভর্তি হয়ে যাবে, এটাও ভূল Concept, পানি না খেলে খাঁবারগুলো হজম হবে কীভাবে, তাই পানি খাঁবেন পরিমাণমত। মেইন ডিস শেষ হবার পর একটু হাটবেন, বন্ধুদের সাথে কথা বলবেন, রেস্টুরেন্টা ঘুড়ে দেখবেন, রেষ্টুরেটের কর্মচারীদের সাথে খাঁবার রিলেটেড কথা বার্তা বলবেন, কিছুক্ষন পর দেখবেন পেটটা একটু হালকা হয়েছে, এরপর আরো অনেক আইটেম আছে যেগুলো আপনি মিস করেছেন সেগুলো নিবেন। যেমন বিরিয়ানী বা খিচুরী ভাল লাগলে নিতে পারেন। ভর্তা আইটেম ধরার দরকার নাই, বে ফুডগুলো Costly ঐগুলোই মূলত নিবেন। টেবিল থেকে আপনার পছন্দের খাবার নিবেন। মেইন ডিসের পর এবার ডেজার্ট আইটেম, বলতে গেলে এটাই বুফেটের শেষাংশ বা উপসংহার, হালকা নাশতা যদি সূচনা পূর্ব হয় মূল পর্ব হল মেইন ডিস আর উপসংহার হল ডেজার্ট আইটেম। ডেজার্ট আইটেমে অনেক মিষ্টান্ন আইটেম আছে, যেমন পুডিং, সেমাই, পায়েশ, কেক, কাষ্টার্ড, হালুয়া, মিষ্টি ইত্যাদি সাথে আইসক্রিম। ডেজার্ট আইটেম বাচ্চাদের অনেক প্রিয়, বিশেষ করে আইসক্রিম, এছাড়া মৌসুম ভিক্তিক বিভিন্ন ফল আছে। ডেজার্ট আইটেমগুলো আরাম করে খাঁবেন, বিশেষ করে কাষ্টার্ড ও পুডিং। সাথে ফল ভাল লাগলে বেছে নিতে পারেন। বুফেটে সব সময় দামী খাবার গুলো চয়েস করবেন।এ

কেকটা রেষ্টুরেটে বুফেটে মেনু একেক রকম, তবে average এ এই মেনুগুলোই থাকে। দাম ভেদে মেনু বাড়ে ও কমে। ঢাকা শহরে ১০০০ টাকার নিচেও অনেক আইটেমের বুফে রেষ্টুরেন্ট আছে। কয়েকটা রেষ্টুরেন্টতো সম্পূর্ণ বুফে কেন্দ্রিক, ঐ সকল রেষ্টুরেন্টে ডেকোরেশনও অসাধারণ। চট্টগ্রামেও অনেক রেষ্টুরেন্টে বুফে পাওয়া যায়। তবে দাম গড়ে ১০০০ টাকার একটু বেশী, চট্টগ্রামের মানুষ আবার মেজবান প্রিয়। তার পরেও বুফে চট্টগ্রামেও বুফে বেশ জনপ্রিয়। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বুফে খাবেন।সবাই দল বেধে গিয়ে খাবেন দেখবেন পিকনিক পিকনিক ভাব চলে চলে আসবে। অনেক রেষ্টুরেন্টে ক্রেডিট কার্ডে Buy1 get 1, এমনকি  get 3 পর্যন্ত offer থাকে। তাই offer গুলো কাজে লাগাতে পারেন।তো এরকম অফার নিলে আমাকেও সাথে নিয়েন। কেননা আমাকে সাথে নিলে আপনার কথা বলার একজন মানুষ থাকবে সাথে আপনার হজমও তাড়াতাড়ি হবে। ধন্যবাদ।


লেখক: রম্য রহিম।

Friday, September 19, 2025

বন্ধু হতে চেয়ে তোমার শত্রু বলে গণ্য হলাম।


ফুল নিবে কিনা অশ্রু নিবে বন্ধু।

ছোট ভাই সজীব বাজার থেকে বাড়ি ফিরতেছিল, সামনে বড় ভাই সজলকে পেয়ে  গেল, কিছু বুঝার আগেই বড় ভাই ছোট ভাইয়ের গালে একটা সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল।বড়  ভাইয়ের সাথে সজীবের কোন সমস্যা নেই। তাই আচমকা চড় খেয়ে একটু হতভম্ব হয়ে গেল। সজল চড় দিয়ে দ্রত সড়ে গেল। সজীব কী করবে বুঝতে পারলো না। কিছুক্ষন লাগলো স্বাভাবিক হতে। তারপর দ্রত পাঁ চালালো বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়িতে ঢুকতেই বাবাকে পেয়ে গেল। সজীবের বাবা আবার ঝানু ব্যাবসায়ী, ব্যাবসা আর টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেন না উনি। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ভাইয়ের নামে  বিচার দিল। গম্ভীর মুখে বড় ছেলের কাহিনী শুনলেন। উনার বড় ছেলে সজল একটু উগ্র টাইপের, প্রায়ই তার নামে বিচার আসে, মারামারি- হাতাহাতি করা তার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে প্রথমে বিরক্ত হলেও এখন কিছুটা ভালই  লাগে, কেননা তিনি নিজেও কিছুটা দখলদার প্রকৃটির। আর এসব কাজে  তার বড় ছেলের মতন একজন লোক দরকার। যাই হউক ছোট ছেলের কাঠে হাত রেখে বললেন" কিছু মনে করিস না বাবা, বড় ভাই মেরেছে তো, এগুলো কিছু না, বড়রা  মাঝে মাঝে ছোটদের মারে, তুই ভুলে যা বাবা, ভূল করে হয়তো মেরেছে, আমি বলে দিব আর মারবে না, আর মারলেও আগে থেকে বলে মারবে" এই বলে সজীবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন "রাতে  বাজার থেকে আসার সময় আমার  জন্য একটা বড় দেখে রুই মাছ  নিয়ে আসিছ। গত পরশু দিন যেটা আনছিল ওর থেকে একটু  সাইজের যেন বড় হয়", আর তোর বড়  ভাইয়ের কথা ভাবিস না, ও আর এগুলো করবে না, আমি বকে দিব। আশ্বস হয়ে খুশি মনে চলে গেল সজীব।

উপড়ের চরিত্রগুলো রুপক অর্থে ব্যাবহার হলেও সবাই বুঝে গেছেনে আসল নাম গুলো কী কী হতে পারে।

জ্বী, এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে গত ৯ সেপ্টেম্বরে। হামাসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে চলমান গাজার গণহত্যা বন্ধে একটা শান্তি বৈঠকের সময ইসরাইল আকস্মিক বিমান হামলা চালায়, কাতার মাকিন অন্যতম ঘনিষ্ট মিত্র, আবার ইসরাইলের সাথে তার কোন তিক্ত সম্পর্কও নেই, বলতে গেলে Safe zone থাকা একটা রাষ্ট্র। আবার কাতারে রয়েছে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাটি। তাই হঠ্যাৎ ইসরাইলী এই আক্রমণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সব আরব দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে তাহলে কী তারা দুধ কলা দিয়ে সাঁপ পুষতেছে।

এই বছরের সময়ে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যেন ঈদ উৎসব শুরু হয়ে গেছিল। ট্রাম্পকে খুশি করতে আরব রাষ্ট্রগুলো যেন প্রতিযোগীতায় নেমে গেছিল।যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় $১৪২ বিলিয়ন (USD) মূল্যের একটি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সেবা-চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তিটি বলা হচ্ছে “ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা বিক্রির চুক্তি” (largest defense cooperation agreement) হিসাবে। এই প্যাকেজে বেশ কিছু ইউএস প্রতিরক্ষা কোম্পানিই যুক্ত থাকবে এবং সে কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ধরন ও প্রযুক্তির অস্ত্র ও সেবার সরবরাহ করবে।সউদি আরব বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করে ফেললো, এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে সউদিরা কী করবে। তারা কী ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলের বিপক্ষে যুদ্ধ করবে নাকি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আদৌতে কোনটাই নয়, তারা এই অস্ত্রগুলো কিনেছে মূলত ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য।আর কাতারতো ট্রাম্পকে উপহার হিসাবে দিয়েছে ৪০০ কোটি ডলারের বিমান। সেই সাথে প্রায় $42 বিলিয়ন মূল্যমানের সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করেছে।

তো এত কিছু দেবার পরও বড় ভাইয়ের কাছে চড়টি কেন খেতে হল? পশ্চিমা দেশগুলোর কাজ হলো চোর কে বলে চুরি করো,আবার ঘরের মালিক কে বলে সজাগ থাকো, ঘরে চুরি হতে পারে। মূলত পৃথিবীতে সব অশান্তি সৃষ্টি করার মূলে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। কাতার বলতেছে ইসরাইলী এই আক্রমনের পরে মার্কিনরা কাতারকে আক্রমনের কথা জানায়, আমার যুক্তরাষ্ট্র বলতেছে একটু আগে জানিয়েছে, আচ্ছা একটু আগে জানাক বা একটু পড়ে জানাক, আক্রমনটা কেন হল আর কোথা থেকে হল। ইসরাইল থেকে কাতারের দূরত্ব  ১৭০০ কিঃমিঃ। তাই এত দূর থেকে এসে কাতারকে আক্রমন করা এত সোজা নয়, তাহলে আক্রমনটা হল কোথা থেকে। ইসরায়েল মূলত লোহিত সাগর থেকে পাঠানো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে কাতারের দোহায় অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কাতার ও ইসরাইলের যে দূরত্ব  ইসরাইলের পক্ষে সরাসরি  ইসরাইল থেকে আক্রমণ করা সম্ভব নয়। তাই তাকে লোহিত সাগর থেকে আক্রমণ করতে হয়েছে।কাতারের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির রাডার ব্যাবস্থা। কিন্তু তাদের রাডার এই বিমান আক্রমণ ধরা পরে নি। তাহলে তারা এত বিলিয়ন বিলিয়ন অস্ত্র কিনে লাভ কী হল। আমারতো মনে হয় এই অস্ত্রের চাবিও পশ্চিমাদের কাছে, হয়তো অনেক শর্ত আছে এইসব অস্ত্রের ব্যবহারে।

 লোহিত সাগর  থেকে হামলা করা হয়।

 অনেক আরব রাষ্ট্র, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের‌ দেশগুলো তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রায় সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। কাতার ছাড়াও, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সংযুক্ত আরব আমিরাত উন্নত আমেরিকান এবং ফরাসি বিমান, এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র ঢালে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর রয়েছে, এবং কুয়েত আমেরিকান লজিস্টিক্যাল এবং গোয়েন্দা সহায়তার উপর নির্ভরশীল।বলতে গেলে আরর রাষ্ট্রগুলো সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার সব দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, শুধু বড় বড় সামরিক ও অস্ত্র চুক্তিই  করেছে। বলতে গেলে সমগ্র আরর রাষ্ট্রসমূহকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক প্রকার ঘিরে রযেছে। যে পরিমান টাকা দিয়ে অস্ত্র কিনেছে সেই টাকা যদি গবেষণা ও নিজেদের সামরিক বাহিনীকে উন্নত করতো তাহলে আজ এই চড়টি খেতে হত না। ইরান যেভাবে সীমিত সামর্থ্যের ভিতর দিয়ে এত নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র উৎপাদান করেছে তা বিস্ময়কর।ইসরাইলী ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা প্রতিহত করে উল্টো  ইসরাইলকে এত দূর থেকে বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র হামলা করে  ইসরাইলকে যেভাবে কাপিয়ে দিয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। এই সময় যদি আরব বিশ্ব ইরানকে সাহায্য করতো তাহলে  ইসরাইলের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যেত। কিন্তু  কোন আরব দেশগুলোতো তা করেই নি বরং নিজেদের আকাশ সীমা খুলে দিয়েছিল ইরানকে আক্রমণ করার জন্য। তারা মনে প্রাণে চেয়েছিল যেন ইরানের পরাজয় ঘটে। কিন্তু ইরান আক্রান্ত হলেও ভালভাবে ঘুড়ে দাড়িয়েছিল। এই যুদ্ধে ইরানের পরাজয় ঘটলে পুরো মুসলিম বিশ্বেরই পরাজয় ঘটতো, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার আর কেউ থাকতো না। গাজাতে চলমান গণহত্যা নিয়েও আরব বিশ্বের কোন মাথা ব্যাথা নেই, এটা যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে তাদের কাছে, আজকে গাজা দখল করলে কালকে যে নিজেরাই ভূমি হারাবে এই সহজ ধারনাটাই হয়তো কারও মনে নেই। ইসরাইল তাদের স্বপ্নের 'Greater lsrael' concept নিয়ে আস্তে আস্তে এগোচ্ছে। আরবরা বিদেশী সৈন্য ভাড়া করে নিজ দেশ রক্ষা করবে ধারন ধারনাটা ভূল, বলতে গেলে খাল কেটে তারা কুমির আনছে। এক প্রকার তারা  নিজেরাই নিজেদের পারে কুড়াল মেরেছে। এই কুড়ালটা তারা সর্ব প্রথম মারে ইরাক যুদ্ধে। সাদ্দাম হোসেন যখন কুয়েত দখল করে তখন আরবদের মনের মধ্যে  মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস বেকার ঢুকিয়ে দিলো এবার আপনাদের পালা। আর আপনাদের নিরাপক্তার দায়িত্ব  আমাদের। সাদ্দামের এই আক্রমণ যে পশিমাদের জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ ছিল।তারা তড়িঘড়ি করে মুক্তরাষ্ট্রকে ঢেকে এনে মার্কিন ঘাটি স্থাপন করলো। আর যুক্তরাষ্ট্রও মওকা বুঝে থেকে গেল। সেই যে একবার সিন্দাবাদের ভূতের মতন সওয়ার হল আর যাবার নাম নেই। একদিকে আরব দেশগুলো পশ্চিমাদের থেকে এক প্রকার প্রতিযোগীতা করে অস্ত্র কিনতেছে আবার ভাড়াটে সৈনা রেখে দিয়েছে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য। এত কিছুর পরও পশ্চিমাদের মন পেল না। কাতার আক্রমণের পর শুধু মুখে মুখে নিন্দার ঝড়, এর বেশী কিছু নয়। জাতিসংঘের নিরাপক্তা পরিষদে যে নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে ঐ খানে কেউ ভয়ে  ইসরাইলের নামই উচারণ করে নি। how funny that!.. কাতার আক্রমনের পর সবাই আরব নেটো গঠনের কথা ভাবতেছে, এই ভাবা ভাবি, উদ্বেগ, নিন্দা, ক্ষোভ প্রকাশ, এগুলো করেই দিন যাবে। আদৌতে কিছুই হবে না।পশ্চিমারা কখনই তা করতে দিবে না। কেননা পুরো আরব দেশ গুলোতে মার্কিন ঘাটি রয়েছে। খোঁদ কাতারেই রয়েছে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাটি। আর ২oo৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় আরব  দেশগুলো যেভাবে ইঙ্গ মার্কিন গ্রুপকে মহায়তা করেছে তা ভুলার নয়। আরব দেশগুলোর ভূমিকা একটু সংক্ষিস্তকারে লিখলাম।

কুয়েত  – মিত্রবাহিনীর জন্য ঘাঁটি দেয়, আক্রমণের মূল লঞ্চপ্যাড ছিল।

সৌদি আরব  – প্রথমে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তবে সীমিত লজিস্টিক সহায়তা দেয় (যেমন আকাশপথ ব্যবহার)।

কাতার – আল-উদেইদ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয় (আমেরিকার প্রধান এয়ারবেস হয়েছিল)।

বাহরাইন – মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটকে আশ্রয় দেয়।ইউএই ও ওমান – সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

তুরস্ক (যদিও আরব নয়) – সংসদ মার্কিন স্থল আক্রমণের অনুমতি দেয়নি, তবে আকাশপথ ব্যবহারে আংশিক সহায়তা  করেছিল। অর্থ্যাৎ একটা আরব রাষ্ট্র ধ্বসে সবাই মিলে পশ্চিমাদের সহায়তা করলো। How funny বললেও কম হবে। কোথায় সবাই মিলে ইরাককে Save করবে তা না করে উল্টো সবাই মিলে একটা আরব রাষ্ট্র ধ্বংস করলো। কালকে ইরাককে ধ্বংসে সহায়তা করেছো আজ নিজের ঘড়েই হামলা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে প্রকৃতির রিভেঞ্জ।  কাতারের  আক্রমণের পর নেটিজেনরা  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছে, কেননা গাজা গণহত্যা নিয়ে আরবদের  ভূমিকা খুবই  হতাশ জনক।

গতকালও ছিলেন এই বাড়ির মালিক আজ তিনি 'উদ্বাস্ত'।

পশ্চিমতীরের আর অবশিষ্টংশ বলতে কিছুই নেই।

আজকে আপনার পাশের বাড়িটা সন্ত্রাসীরা দখল করলো কালকে যে আপনি Next Target হবেন না তা সহজে অনুমেয়। হয়তো কোন এক দিন আরবরা ঘুম ভেঙে দেখবে তাদের বাড়ির সামনে বিশাল  বিশাল বুলডোজার নিয়ে ইসরাইলী সৈন্যরা সামনে দাড়িয়ে আছে আর তাদেরকে বলতেছে দ্রুত বাড়ি ত্যাগের জন্য। যেমনটি ঘটতেছে ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের মতন। পশ্চিমতীরের প্রতিদিনই নতুন নতুন বাড়ি ভাঙ্গতেছে।যা মিডিয়াতে তেমন ভাবে আসে না। আপনার নিজের বাড়ি সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবেন অরেকজন দখল করে ফেলেছে, পরদিন থেকে আপনার পরিচয় শুধুই 'উদ্বাস্ত'। 

বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে ফিলিস্তিনি বসতি।

প্রবাদে আছে, 'রোম যখন পুড়ছিলো , নিরো তখন বাঁশী বাজাচ্ছিল'। আর 'গাজা যখন পুড়তেছিল আরবরা তখন ঘুমাচ্ছিল'।হয়তো এটাও ভবিষৎ এ প্রবাদ বাক্যে পরিণত হবে।






লেখক: রম্য রহিম।

ছবি ও তথ্যঃ উইকিপিডিয়া।




Saturday, September 13, 2025

শিশুদের সামনে যে আচরণগুলো ভুলেও করবেন না।


পারিবারিক অশান্তি সন্তানদের মানসিক বিকাশের প্রধান অন্তরায়।


সন্তান হল মহান আল্লাহ পাকের বড় নেয়ামত। প্রত্যেক মা বাবাই চায় তার সন্তান মেন বড় হয়। শিক্ষা দীক্ষায় সবার থেকে সেরা হয়। একটি সন্তান পালন করতে বাবা মা উভয়কেই প্রচুর কষ্ট করতে হয়। বাবাকে সন্তানের ভরন পোষনের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করতে হয় ঠিক তেমনি মাকেও ছোট্ট বেলা থেকে সন্তানকে বেড়ে তোলার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়। বলতে গেলে জীবনের একটি অংশ শুধু চলে যায় শুধু ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে।

এত কষ্ট করার পরেও সেই সন্তান কেন জানি তাদের মন মতন হয় না।মা বাবার করা কিছু ভূল সেই সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ করতে পারে না।

এর জন্য দোষটা কার, মা নাকি বাবার।

শিশুরা অনুকরণীয় প্রিয়। বাবা মা যা করবে ছোট্ট বেলা থেকেই তা শিখবে। মা বাবার আচরণে এমন কিছু ভুল থাকে যা থেকে শিশুরা ভূল শিক্ষা পায়। পিতা মাতার এত কষ্ট সন্তানকে বড় করে মূলত তারা যেন বড় হয়ে ভাল ১টি সরকারী চাকরী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা ভাল ১ জন ব্যবসায়ী হয়, শুধুমাত্র ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বানানের উদ্দেশ্যেই সকল পিতা মাতার একমাত্র লক্ষ্য মাকে, কিন্তু তা ছাড়াও যে একজন ভাল মনের মানুষ বানানো যেন গৌন উদ্দেশ্য  থাকে। 

শিশুদের সামনে বড়দের অনেক আচরণই তাদের মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। কিছু বিষয় আছে যা শিশুদের সামনে করা উচিত নয়:


❌ শিশুদের সামনে মানা কিছু আচরণ:


🚫গালাগালি ও মারধর: 

আমাদের ভিতরে এমন অনেকই আছে যারা অন্যদের গালি গালাজ করতে ভালবাসি। আমাদের ভিতর অনেকেই আছে উগ্র মেজাজের। বাইরে থেকে বাসায় এসে বিভিন্ন বিষয় বকাঝকা সাথে গালি গালাজ করি, এর প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপড়, অনেক বাবারা আছে সন্তানের সামনেই তার মাকে গালিগালাজ করে, এতে করে সন্তানের মাকেই সন্তানের সামনেই ছোট করা হয়। ফলে মায়ের প্রতি সন্তানের যে সম্মান তা কমে যায়। মায়ের অনেক কথাই সন্তানরা শুনতে চাঁয় না। বকা ঝকা দিলেও তা আমলে নেয় না। ফলে সন্তানরা বিগড়ে যেতে শুরু করে। আবার অনেক বাবারা আছে যারা সমান্য বিষয় সন্তানের সামনে তার মায়ের গায়ে হাত তুলে যা সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই বাবার প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে।ভবিষ্যৎ এ  সন্তানটি হয়তো নিজের বউকে পিটাবে। তাই ভূল করেও বাচ্ছাদের আমনে এই ভূল করবেন। গালিগালজ শুধু বাবারা করেন না অনেক মায়েরাও করে থাকেন। অনেক মায়েরা আছে সব সময় খিট খেটে মেজাজের হয়। যা সন্তানের সুস্থ মানস মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।ছোট বেলা থেকেই সন্তানরা যদি গালি গালাজ শিখে ফেলে, পরবতীতে সেও বড় হয়ে অন্যদের গালিগালাজ করে এবং এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়।পারিবারিক অশান্তি সন্তানদের সামনে করা উচিত নয়।

বাবা-মা বা অন্যদের ঝগড়া, গালি-গালাজ বা শারীরিক সহিংসতা শিশুর মনে ভয়, রাগ ও হিংস্রতা তৈরি করে। তাই শুধু পড়া লেখা কড়ালেই সন্তানরা বড় হবে না সন্তানের স্বাভাবিক গ্রোথের জন্য দরকার পারিবারিক সুস্থ ও স্বাভবিক পরিবেশ।

🔞 পোশাক পরিবর্তন বা ব্যক্তিগত কাজ অশ্লীল আচরন:

অনেকেই আছে সম্তানদের পোশাক পরিবর্তন করেন যা মোটেও উচিত নয। বড়রা যখন পোশাক পরিবর্তন করে সন্তানের আঢ় চোঁখে তাকিয়ে থাকে। তাই  পোশাক পরিবর্তন সময অন্য রুমে গিযে তা পরিবর্তন করা উচিত। সন্তানের  সামনে বাবা মার শারিরীকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া মোটেও উচিত নয়।পোশাক পরিবর্তন, দাম্পত্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত এসব শিশুদের সামনে করা উচিত নয়।

দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, অশ্লীল মজা বা শরীর সম্পর্কিত খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়।এতে শিশুর কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা অকাল যৌন সচেতনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

🚭 মাদক বা সিগারেট খাওয়া:

অনেকেই আছে যারা সিগারেট বা মাদকে আসক্ত। অনেকে তো হচ্ছে চেইন স্মোকার। সন্তানদের সামনে সিগারেট খেলে স্বাগবিক ভাবে তাদেরও ইচ্ছা জাগবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে মনে। একটু বড় হবার পর বাবার পকেট থেকে সিগারেট চুরি করে খাবে। আর সিগারেটের পর কী ধরবে তা তো সবারই জানার।

সিগারেট, মদ বা অন্য মাদক ব্যবহার করলে শিশুর মনে এগুলো স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গেঁথে যায়।

🚫অন্যকে অসম্মান করা:

বয়স্কদের অসম্মান, নিজ মা-বাবার প্রতি খারাপ ব্যবহার করা, অন্যের কাজে প্রশাংসা  না করে উন্টো সমালোচনা করা, মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি সন্তানের কাছে ভূল মেসেজ পৌছে দেয়। নিজের মা বাবাকে অসম্মান করলে বড় হয়ে আপনাকেই  অসম্মান করবে। শুধু নিজের মাবাবা নয় অন্যের মা বাবাকে অসম্মান করা উচিত নয়।  

🚫মিথ্যা বলা ও প্রতারণা: 

শিশুদের সামনে মিথ্যা বলা একেবারেই উচিত নয়, এতে করে সেও শিখে ফেলে কীভাবে মিথ্যা বলে প্রকৃত সত্য চাপাঁ দেওয়া যায়। একজন মিথ্যাবাদী পরবর্তীতে একজন প্রতারক হতে পারে।

শিশু শিখে নেয় যে মিথ্যা বলা স্বাভাবিক, এবং তারাও এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়


📵অতিরিক্ত মোবাইল/টিভি ব্যবহার:

বাচ্চাদের মোবাইল ধরতে দেওয়া নিষেধ কিন্ত বাচ্চাদের জেদের কারনে না দিয়েও পারা যায় না। অনেক সময় অশালীন কনটেন্ট, সহিংস কার্টুন বা অশ্লীল সিনেমা শিশুদের মোবাইলে চলে আসে তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

🙀হতাশার চরম প্রকাশ

জীবন নিয়ে বারবার হতাশ হওয়া, আত্মহত্যার কথা বলা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রকাশ শিশুদের সামনে করা উচিত নয় যা শিশুদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আপনি হতাশ হলে আপনার বাচ্চারা তো হতাশ হবেই।


🔥মূল কথা: শিশুরা যা দেখে তাই শেখে। তাদের সামনে যেকোনো আচরণ করার আগে ভাবতে হবে – "এটি দেখে কি সে ভুল কিছু শিখবে?"




লেখক: রম্য রহিম।





Saturday, September 6, 2025

আর্ক ব্যান্ড ৯০ এর শেষ উচ্ছাস।

আর্ক এর বিখ্যাত তিন মাঝি।

সৃষ্টিকর্তা হযরত নূহ (আঃ) কে একটি বিশ্বব্যাপী মহাপ্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি বড় নৌকা নির্মাণের নির্দেশ দেন।হযরত নূহ (আঃ) তার অনুসারীদেরকে সম্ভাব্য মহাপ্লাবন থেকে বাঁচানোর জন্য  একটি বিশাল নৌকা তৈরি করলেন একে একে সব সম্প্রদায় থেকে তিনি জোড়ায় জোড়ায় প্রাণী  তুললেন, ৪০ দিন একটানা বন্যা হল, মহাপ্লাবনের সময়  নির্মিত নৌকার করে নিজের পরিবার ও পৃথিবীর সকল প্রাণীর এক জোড়াকে রক্ষা করেছিলেন। ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মমতে সেই বিখ্যাত নোকটির নাম হল 'Ark'। সেই নৌকাটি আজও বিজ্ঞানীরা খুজে পায় নি। অনেকেই তুরস্কের আরারাত বা জুদাই পর্বতে এর অস্তিত্ব আছে বলে মনে করেন। আজও বিজ্ঞানীরা সেই নৌকার খোঁজ করতেছে।


তবে বিজ্ঞানীরা সেই নৌকা খুঁজে না গেলেও আমরা  অন্য একটি নৌকাকে পেয়েছি সেই ৯০ দশকে।তবে এটা নৌকা নয় এটা ৯০ দশকের ঝড়  তুলা বাংলাদেশী ব্যান্ড আর্ক। যে ব্যান্ডটি তারুণ্যকে দিয়েছে অন্য ধরনের উচ্ছাস। সেই উচ্ছাসের রেশ যেন এখনো রয়ে গেছে আমাদের মাঝে।আর্ক ব্যান্ডের জম্ম ১৯৯০ সালে। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মিউজিকশিয়ান আশিকুজ্জামান টুলুর হাত ধরে। চাইম ব্যান্ড থেকে বের হয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন আর্ক। শুরুতে আর্কের সদস্য ছিল টুলু, পঞ্চম, পার্থ মজুমদার, শামীম, রাজা প্রমূখ, এর পর এল সবার প্রিয় হাসান। মূলত আশিকুজ্জামান টুলু, হাসান ও পঞ্চমের ক্রয়ীর সম্বনয়ে আর্ক এক সোনালী ইতিহাস তৈরি করে। আশিকুজ্জামান টুলু বাংলাদেশের সবচেযে মেধাবী একজন মিউজিকশিয়ান, শুধুমাত্র ব্যান্ডের গান নয় অনেক জনপ্রিয় আধুনিক গানের সুর ও মিউজিক উনি করেছিলেন।ব্যান্ডের গানগুলোকে সহজ, হৃদয়ছোঁয়া এবং জনপ্রিয় করার  পিছনে উনার অবদান অনস্বীকার্য।  বাংলা ব্যান্ডের প্রথম  মিক্স এ্যালবামও উনার হাতে করা বলতে গেলে টোটাল মিউজিকের একজন পুরাধা বলা চলে উনাকে। পারিবারীকভাবে সংগীত পরিবার থেকে এসেছিলেন উনি। উনার বাবা উস্তাদ মুন্সি রইসউদ্দীন ছিলেন একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আর পঞ্চমও এসেছেন বাংলাদেশের বরেণ্য সঙ্গীত পরিবার থেকে, প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী মাহমুদ নবীর সন্তান উনি আর উনার বোনেরা হলেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী ও ফাহমিদা নবী। আর জন্মগত প্রতিভা নিয়ে হাসান যখন আর্কের সদস্য হন তখন আর্ক যেন পরিণত হল একটি মিউজিক ফ্যাক্টরিতে। হাসানের কন্ঠের যথাযত ব্যবহার যেন করতে পেরেছিলেন আশিকুজ্জামান টুলু, বলতে গেলে জহুরীর রত্ন চিনার যেন বাকী ছিল। 

কনসার্টে হাসান।  ছবি- সংগৃহিত

১৯৯২ সালে আর্ক প্রকাশ করে তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’। এই অ্যালবামে ‘সেদিনও আকাশে ছিল চাঁদ’ ও ‘হারিকেন লণ্ঠন’ শিরোনামের দুটি গান ব্যাপক সাড়া জাগায়।১৯৯৬ সালে প্রকাশ করে তাদের ২য় এ্যালবাম 'তাজমহল'।এই এ্যালবামের মাধ্যমে মিউজিকের এক নতুনত্বের ছোয়া দিয়ে  শ্রোতাদের মন জয় কবে, সুইটি, গুরু, পাগল মন, একাকী, তাজমহল, এমন একটি সময় ছিল, ইত্যাদি গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। বিটিভিতে হাসান যখন তার উঁচু স্কেলে 'একাকি' গানটি গায় শ্রোতাড়া যেন নড়ে চড়ে বসলো। দীর্ঘ দিন ধরে একই ধারার গান শুনতে শুনতে মানুষ যখন বিরক্ত হয়ে উঠছিল, সেদিক থেকে হাসানের গান যেন ছিল ছিল মরুর বুকে হঠ্যাৎ বৃষ্টি। সেই সাথে সফট টাচে 'সুইটি' গানটি  গানটি ছিল আর্ক ব্যান্ডের অ্যালবামের অন্যতম হিট গান।গানটিতে প্রেমের মিষ্টি অনুভূতি, সহজ-সরল কথার আবেদন এবং হাসানের উচ্চকণ্ঠের প্রাণবন্ত গায়কী শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল।' তাজমহল” গানটিও আর্ক ব্যান্ডের এক অমর সৃষ্টি।গানের কথায় চিরন্তন প্রেমের প্রতীক ‘তাজমহল’-এর উপমা ব্যবহার করে প্রেম ও ভালোবাসার যে আকুটি তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গানটিতে পামির মালভূমি, সংগ্রামী যুবকের বিভিন্ন ইচ্ছা  বা আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হয়েছে। ৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে গাওয়া গানটিতে হাসান তার ভরাট ও টানটান কণ্ঠ এই গানটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে।  টুলুর গাওয়া 'পাগল মন' গানটিতে গানের কথায় ছিল অস্থির প্রেমের টানাপোড়েন ও  সাবধানতার  ছাপ।'এমন একটি সময় ছিল' এই গানটি পঞ্চম তার ভরাট কন্ঠে অতীতের সুন্দর মুহূর্তের সময় এক ধরনের হাহাকার ফুটিয়ে তুলেছে।, যা বর্তমানের দুঃখ-বেদনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।পঞ্চমের কণ্ঠের ভরাট সুর ও হৃদয়স্পর্শী আবেগ গানটিকে যেন আজও জীবন্ত। তাজমহল এ্যালবামের রেশ না কাটতেই ১৯৯৮ সালে প্রকাশ করে তয় এ্যালবাম 'জন্মভূমি'। সাধারণ একটি এ্যালবাম হিট হলে পরের এ্যালবামটি সেরকম হিট করে না। কিন্তু আর্ক তা ভূল প্রমানিত করলো। 'তাজমহল' এ্যালবামের মাধ্যমে আর্ক নিজের জাত চিনিয়েছিল আর জম্মভূমি এ্যালবামে যেন পূর্ণতা পেয়েছিল। এই এ্যালবামের প্রতিটি গান সুপার হিট হয়। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের কাছে আর্ক হয়ে উঠে এক উন্মাদনার নাম। প্রেম তুমি,প্রতিশ্রতি, আকাশের নীলে, আভিমানে, ঐ দূর পরবাসে, অভিশাপ, যারে রে যা,বাংলাদেশ, ইত্যাদি গান বেশ জনপ্রিয়তা পায। বলতে গেলে এই এ্যালবামের কোন গানকে আলাদা করা যাবে না, সবগুলোই সমানভাবে হিট করেছে। এর মধ্যে 'এত চাই তবুও' গানটি  আমার একটি বিশেষ ভাল লাগার গান, গানটির একটি লাইন-ছোট্ট যারা শিশু শ্রমিক, ছোট্ট দুটি হাত, আমানবিক শ্রম বিনিময়ে, অল্প কটা ভাত। গানটির ভিতর শ্রমজীবি মানুষের দুঃখের কথা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, গান যে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় গানের কথায় মানবিক মূল্যবোধ ফুটিয়ে তোলা যায়, আর্ক যেন এই এ্যালবামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিল। এই এ্যালবামের অসাধারণ সাফল্যের পর ২০০০ সালে বের হয় 'স্বাধীনতা' নামক এ্যালবাম। 'স্বাধীনতা' এ্যালবামটি বের হবার পর হাসান ও পঞ্চম উভয়ই  দল ত্যাগ করেন। হাসান 'স্বাধীনতা' নামে আর পঞ্চম 'এজেস' নামে আলাদা ব্যান্ড গড়েন। ২oo৩ সালে আর্ক তাদের শেষ এ্যালবাম 'হারান মাঝি' বের করে। আশিকুজ্জামান টুলু কানাডাতে স্থায়ী হয়ে পড়লে স্বাভাবিক ভাবেই আর্কের কার্যক্রমে ভাটা পড়ে। হাসান ২০১০ সালে আবার আর্কে ফিরে আসেন। আর্ক এখনও স্টেজ পারফর্ম করলেও আর্কের আর নতুন গান বের হয় নি। মূলত টুলু, পঞ্চম ও হাসান, শামিম মিলে যে নতুন নতুন গান নিয়ে শ্রোতাদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সেই দিনগুলো সম্ভবত ফিরে আসবে না। নতুন প্রজম্মও হয়তো জানবেও না তারা কি মিস করেছে। আমরা কিন্তু চাই আর্কের মাধ্যমে সুইটিরা ফিরে আসুক বার বার।
       '
৯৬ সালে আর্ক।    ছবি- সংগৃহিত

তাজমহল এ্যালবামের লাইন আপ। ছবি- সংগৃহিত


আমার এই লেখাটি নিতান্তই নিজস্ব, কাউকে আনিচ্ছাকৃতভাবে ভাবে আঘাত করে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী।

ব্যান্ড নিয়ে অন্য লেখা:

হারিয়ে যাওয়া কিছু বাংলা ব্যান্ড। 
Link: https://ruposhiban.blogspot.com/2025/07/blog-post.html


তথ্যসূত্র ও ছবি: উইকিপিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে।


লেখক: রম্য রহিম।

Saturday, August 30, 2025

কর্পোরেট পলিটিক্স- শিকার নাকি শিকারি হবেন।



মাসুম সাহেব একজন সহজ সরল মানুষ। অনেকটা আমার মতন😆। কারও সাথেও নেই পাঁচেও নেই। নিজের কাজটা দক্ষতার সহিত করেন।কোন কাজে তার না নাই।  শুধু নিজের কাজ না অন্য কলিগদের সব ধরনের কাজে সহযোগিতা করেন। বলতে গেলে কাজ পাগল একজন মানুুষ। অন্যরা যেখানে কাজ ফাকি দেয় সেদিক থেকে মাসুম সাহেব ঢেড় অনেক ভাল। এই ভাল মানুষটা আজ প্রায় ৭ বছর যাবৎ  একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে এইচ আর বিভাগে মধ্যম সারির কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

আজ সকাল থেকে মাসুম সাহেব উক্তেজিত মনে কাজ করতেছেন।কেননা আজ  বার্ষিক প্রমোশন, ইক্রিমেন্ট ইত্যাদি ঘোষিত হবে।এই অফিসে প্রায় ৭ বছর যাবৎ আছেন। কিন্ত কোন প্রমোশন হয় নি। তার সামনে দিয়ে জুনিয়র সহকর্মীরা প্রমোশন পেযে কেউ কেউ বস লেভেলে চলে গেছেন। আর মাসুম সাহেব সেই মাসুম সাহেবই রয়ে গেছেন। এবারের প্রমোশনটা বেশি দরকার তার। কেননা দিনেকে দিন সংসারের খরচও বাড়তেছে।বড় মেয়েটা এবার ইন্টার পাস করেছ। আর ছোট ছেলেটে বিজ্ঞান বিভাগে নাইনে পড়তেছে। পড়াশোনার খরচ বেড়ে গেছে। সেই সাথে বাসাটাও পরিবর্তন করতে হবে। ছেলে মেয়েরা বড় হচ্ছে তাদের জন্যও আলাদ রুম লাগবে। সব কিছু মিলিয়ে তার এবারের প্রমোশনটা খুব দরকার, সারাদিন উক্তেজিত মনে অপেক্ষা করতেছেন কখন বিকাল হবে, মূলত শেষ বিকালের দিকে যারা প্রমোশন পাবেন তাদের কাছে mail চলে আসে।

বিকাল হতেই তার মনে চাপা উক্তেজনা বিরাজ করতেছে। একটু পর পর mail চেক করতেছেন কখন 🥲প্রমোশনের mail আসে। অপেক্ষা করতে করতে শেষ বিকাল প্রায় শেষ হতে চললো কিন্তু প্রমোশনের mail আর আসে না। হঠ্যাৎ করে পাশের ডেস্কে মঞ্জুর সাহেব উক্তেজিত কন্ঠে got it, got it বলে চিল্লিয়ে উঠলো, অর্থ্যাৎ তিনি প্রমোশন পেয়েছেন, মঞ্জুর সাহেব অফিসে join করেছেন ২বছর মাত্র, বলতে গেলে আসতে না আসতেই প্রমোশন পেয়ে গেলেন।

মঞ্জুর সাহেবের কাছে প্রমোশনের মেইল আসার পর মাসুম সাহেবের উক্তেজনা যেন আরও বেড়ে গেল। তার সমস্ত  মনোযোগ mail এর উপড়, একটু পর পর mail এ Refresh দিচ্ছেন। আবার Junk mail চেক করতেছেন। সমস্ত পৃথিবী যেন mail ভিতর আটকে গেছে। একটা সময় তার উপলব্দি হল তিনি এবারও প্রমোশন পান নি। তার সময়টা যেন থমকে গেছে। কিছুক্ষণ পর পিয়ন এসে বলে গেলেন যারা প্রমোশন পেযেছেন সবাই বড় Sir এর রুমে গেছেন দেখা করতে। মাসুম সাহেব চশমা খুলে রাজ্যের হতাশা নিয়ে চুপ করে বসে রইলেন।

উপড়ের ঘটনায় মাসুম সাহেব কী অফিস পলিটিক্সের শিকার নাকি অযোগ্যতার অভাব। আসলে তিনি অফিস পলিটিক্সের শিকার। মূলত মাসুম সাহেব একজন দক্ষ কর্মী হওয়ার পরও শুধুমাত্র বসদের সাথে ভাল সর্ম্পক না থাকার কারণে বসদের গুডবুকে নিজেকে স্থান দিতে পারেন নি। কর্পোরেট জগতে কেউ কারো বন্ধু হতে পারে না। উপড় দিয়ে সবাই নিজের ভাল রুপটা দেখায় কিন্তু তাদের সবার ভিতরের  যে কৃৎসিত রুপটা আছে তা কেউ দেখতে পায় না।কে কাকে ডিঙ্গিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে সেই চেষ্টাতেই সবাই ব্যাস্ত। অফিসের বসকে কে কত বেশী তেল মেরে এগিয়ে বসের হৃদয়ে স্থান নিবে সেই চেষ্টাতে ব্যাস্ত সবাই। বসদের সামনে নিজেকে হাই লাইট করার জন্য অন্য সহকর্মীদের কৌশলে ছোট করা, আবার সহকর্মীদের ছোট খাট ভূল বসদের কাছে অচিরঞ্জিতভাবে বাড়িয়ে বলা। আবার নিজের ভূল সুকৌশলে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া, ইত্যাদি অফিস পলিটিক্সেরই একটা অংশ। অফিসের  বাইরেও বসদের ছোট খাট কাজ করে দেওয়া। Off day তে বসদের বাসায় গিয়ে বসদের পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা। বসদের বাচ্চাদের জন্য Gift কিনে দেওয়া। আরো অনেক কিছু আছে যা অফিস পলিটিক্সের অংশ। কে বসের কাছে প্রিয় হবে এসব নিয়েই কর্পোরেট পলিটিক্স তৈরি হয়। অনেক সময় কাজের দক্ষতার চেয়ে সম্পর্ক বা প্রভাব বেশি গুরুত্ব পায় এখানে। মানুষ তার পরিবারের থেকেও অফিসে সময় বেশী সময় দেয়। জীবনের একটা অংশ অফিসই  চলে যায়। প্রতিদিন যাদের সাথে উঠতে বসতে দেখা সেই পরিচিত মুখ গুলোর মধ্যেই কেউ না কেউ আপনার বিরুদ্ধে বসের কাছে পিন  লাগচ্ছেন কিনা তা আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না। আবার বসদের ভিতরেও অনেকে আছে কলিগদের ভিতর নিজেই দ্বন্দ্ব লাগিয়ে চুপে চুপে মজাঁ উপভোগ করেন।কর্পোরেট পলিটিক্সের কারণে অনেক সময় অফিসে হিংসা, অবিশ্বাস আর অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। মেধাবী কর্মীরা অবহেলিত হন, আর এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়। একজন দক্ষ কর্মী তার দক্ষতার মূল্যায়িত না হলে এটার প্রভাব তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও এসে পড়ে। পরিবারের মানুষদের কাছেও গুরুত্ব কমতে থাকে।

এতক্ষণতো শুধু কর্পোরেট পলিটিক্স  নিয়েই কথা বললাম। এর বাইরেও আছে হোম পলিটিক্স। যা আরও জটিল। ঘড়ের আপনজনরা যখন পরস্পরের ভিতর হোম পলিটিক্স এ জড়িয়ে পড়ে তখন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সাধারণত সম্পক্তি ভাগ বাটোয়ারীর হোম পলিটিক্স শুরু হয়। মাহিলাদের ক্ষেত্রে সদ্য বিয়ে করা নববধূ শ্বশ্বড় বাড়ির লোকদের কাছে হোম পলিটিক্সের শিকার হতে হয়। দেখা যায় সারাদিন ঘড়ের সমস্ত কাজ ও রান্না বান্না করার পরেও এর ক্রেডিট অন্য সদস্যরা নেয়। রাতে খাওয়ার টেবিলে ছেলে বা কর্তা ব্যক্তির সামনে রান্নার ক্রেডিট নিজেরা নেয়, নতুন বউ যেন কিছুই করে নি। এতে সেই মেয়েটি সংসার জীবনে প্রথমেই পলিটিক্সের শিকার হতে হয়, এক সময় সেও এসব পলিটিক্স শিখে যায়। বিদেশ থেকে যে ভাইটি  দেশের বাইরে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠায়। তাকেও দেশে আসার পর বিভিন্ন ধরনের হোম বা ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার হতে হয়। 

ভিলেজ পলিটিক্সের যখন নাম চলে আসলো এই সমন্ধে কিছু বলা উচিত। ভিলেজ পলিটিক্স হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন পলিটিক্স। এর সমন্ধে কিছু লেখার সাহস আমার নাই। স্বয়ং ট্রাম্প - পুতিন যদি আসে তারাও ফেল করবে।

Politics শব্দের উৎপত্তি (Etymology)শব্দটি এসেছে Greek (গ্রিক) শব্দ politikos  থেকে, যার অর্থ হলো “of, for, or relating to citizens” = নাগরিক সম্পর্কিত।গ্রিক polis মানে হলো শহর-রাষ্ট্র বা নগর।

আমরা Politics বলতে বুঝি  ক্ষমতার ময়দানে এদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার জন্য কাঁড়াকাড়ি।কিন্তু আদৌতে পলিটিক্স শব্দটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রাত্যহিক অংশ হয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সব সময় সর্তক থাকতে হয় আপনি কি নতুন কোন পলিটিক্সের শিকার হতে চলেছেন নাকি শিকারী হতে চলেছি

শিকার নাকি শিকারি হবেন ডিশিসনটা আপনার উপড়। আপনার ডিসিশনের উপড় নির্ভর করতেছে আপনার ভাগ্য মাসুম সাহেব মতো হবে নাকি মঞ্জুর সাহেবের মতন হবে।


বিঃ দ্রঃ- সব চরিত্র কাল্পনিক।

লেখক: রম্য রহিম।






 





Sunday, August 24, 2025

সিকিম স্বাধীন থেকে পরাধীন।

    


কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পর্বতশৃঙ্গ।

সময়টা আজ থেকে ৫০ বছর আগে, সকালের নাস্তা করতে বসেছে সিকিমের রাজ পরিবার।ঠিক সেসময় বেরসিক ভাবে উপস্থিত হন ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাজ প্রাসাদের কৰ্মকর্তা ও কর্মচারীদের  বন্দী করে ভারতীয় সৈন্যরা পুরো সিকিমের দখল নিয়ন্ত্রন নিয়ে ফেললেন। সিকিম হয়ে গেল ভারতের ২২ তম অঙ্গরাজ্য। স্বাধীন দেশ থেকে সিকিম হয়ে গেল একটি রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য। অথ্যাৎ তাদের ভাগ্যে জুটলো ডিমোশন।সিকিম ভারতের বর্তমানে ২য় ক্ষুদ্রতম অঙ্গরাজ্য।
আমাদের দেশের রাজনৈতিবাদদের মুখে আগে শুনতাম বাংলাদেশকে ভূটান কিংবা সিকিম হতে দিব না। ভূটান একটা স্বাধীন রাষ্ট্র কিন্তু সিকিমের এমন কী ঘটেছিল যে তারা  ভারতের পেটে  ঢুকে গেল। কোন রকম সামরিক অভিযান বা কোন রকম বাধা ছাড়াই সিকিম হয়ে গেল ভারতের অংশ। যেন তিমি মাছ মুখ হা করে বসেছিল আর ছোট মাছটি টোপ করে তার পেটে ঢুকে গেল। এই ছোট মাছটি শিকার করতে ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত। ভারতের শিকারে পরিণত হওয়ার জন্য একটি বিশেষ চরিত্র  নাম আসবে তার নাম কাজী লেন্দুপ দর্জি।তার আগে সিকিমের পূর্বের ইতিহাস জানা দরকার। 

মানচিত্রে সিকিমের অবস্থান।


সিকিমের শেষ রাজা চগা তোরবা ও তার স্ত্রী

সিকিম ছিল একটি স্বাধীন রাজ্য, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নামগ্যাল রাজবংশের রাজারা (চোগিয়াল নামে পরিচিত) শাসন করতেন। ব্রিটিশ শাসনামলে সিকিম এক ধরনের প্রোটেক্টরেট বা রক্ষাকবচ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল।
১৯৪৭ এর দেশ বিভাগের সময় সিকিম ভারতের সাথে যোগ দেয় নি। কিন্ত তারা ভূল করে বসলো ১৯৫০ সালে এসে।
১৯৫০ সালে সিকিম ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, সিকিম তার অভ্যন্তরীণ শাসন বজায় রাখলেও প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব ভারতের হাতে চলে যায়। মূলত এভাবেই সিকিম ভারতের আধা-নিয়ন্ত্রণাধীন অবস্থায় পৌঁছে যায়। অথ্যাৎ একটি রাষ্ট্রের প্রায় সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে করেকটি রাষ্ট্র। বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের  মতো  মন্ত্রনালয় যদি আরেকটি দেশ নিয়ন্ত্রন করে তবে সেদেশ এক প্রকার নিজেকে অন্যের হাতে সপে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। মূলত সিকিমের রাজাদের ভূল সিদান্তের ফল আজও ভোগ করতেছে সিকিমবাসী। শাসক হিসাবেও এই রাজারা খুব ভাল ছিল না। বর্তমানে সিকিমের জনসংখ্যা মাত্র ৬ লাখের বেশী,৭৫ এর পূর্বে জনসখ্যা ছিল মাত্র ২ লাখের বেশী। এত অল্প সংখ্যক জনসংখ্যার দেশ হওয়া স্বত্বেও সিকিমের রাজারা নিজেদের ভোগ বিলাসে বেশী ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। তাই জনগনের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়। ১৯৭০ এর দশকে সিকিমে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। রাজা চোগিয়ালের একাধিপত্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু হয়। মূলত সিকিমের রাজারাই  নিজেরাই এর জন্য দায়ী ছিল। জনগণ সম্পূর্ণ সিকিমের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলে গেল। তারা রাজতন্ত্রের বিপরীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন এ জড়িয়ে পড়লো। আর এই আদোলন নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন নেতার প্রযোজন। আর এই নেতার নাম ছিল কাজী লেন্দুপ দর্জি। মূলত ভারতের পৃষ্ঠপোষকে লেন্দুপ দর্জির নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক  আন্দোলন শুরু হয়। প্রায় প্রতদিনই রাজপথে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিছিল মিটিং হতো। আবার ভারতীয় সৈন্যরাও সাধারণ মানুষের সাথে মিশে গিয়ে এই আন্দোলন আরো উসকে দিতো। বলতে গেলে সিকিমের তখন হযবরল অবস্হা। রাজারা না পারতেছে মানুষের মন জয় করতে না পারতেছে আন্দোলন দমন করতে। সিকিমের জন বিন্যাসেও কিছুটা বিচিত্রতা আছে।সিকিমের অধিবাসীদের মধ্যে নেপাল থেকে আসা নেপালি (গোর্খারা) প্রায় ৬০– ৭০ %, তিব্বত থেকে আসা ভূটিয়ারা প্রায় ১৫-২০% আর মূল সিকিমবাসী যারা লেপচা নামে পরিচিত তারা মাত্র প্রায় ১০–১৫%। অর্থ্যাৎ নেপালীরা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ট আর এই রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মূল আন্দোলনে নেপালীরা নেতৃত্ব দিত। দেশ চালাতে অক্ষম রাজাদেরকে বিরুদ্ধে গিয়ে সিকিমের বহু মানুষ ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবি তুলতে থাকে। বিভিন্ন ঘটনা প্রতি ঘটনার ভিতর আসে ১৯৭৫ সাল। আসলে ৭৫ সাল যেন দেশ বিদেশের রাজনীতিতে যেন উক্তাল বছর।১৯৭৫ সালে ভারতের সহায়তায় সিকিমে এক বিতর্কিত  গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিতর্কিত সেই গণভোটে অধিকাংশ মানুষ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে মত দেয়।একটা দেশের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত গণভোট নিয়ন্ত্রণ করলো অরেকটা দেশের সেনাবাহিনী। সুতরাং বুঝাই যায় সিকিমের রাজারা কত দূর্বল ছিল। গনভোটের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী সিকিমে সম্পূর্ণরুপে প্রবেশ করে এবং রাজাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। একই বছরের মে মাসে ভারতের সংসদে একটি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সিকিমকে ভারতের ২২তম রাজ্য ঘোষণা করা হয়।আর এভাবেই সিকিমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। সিকিম হচ্ছে নেপাল ও ভুটানের মাঝে অবস্থিত। কৌশলগত দিক দিয়ে সিকিম ভারতের জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সিকিমের উপড়েই তিব্বত অবস্থিত। ভারত কৌশলগতভাবে চীন সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।তাই সিকিম দখল ভারতের জন্য বেশ জরুরী ছিল। আর সিকিমের এই পরাধীনতার পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশী তিনি হচ্ছেন লেন্দুপ দর্জি। মানুষ স্বাধীনতার জন্য অবদান রাখেন। আর বিশ্ব ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যে নিজের দেশকে আরেক দেশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তার এই অবদানের জন্য হয়েছিলেন সিকিমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।৭৫ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত সিকিমের ১ম মূখ্যমন্ত্রী।তার শেষ জীবনটা সুখকর হয় নি। সিকিমের মানুষ তাকে একজন দেশদ্রৌহি ভাবতে থাকেন।ভারত অবশ্য তাকে  পুরস্কার স্বরুপ পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রদান করে। শেষ বয়সে এসে অনেকটা নির্বাসিতভাবে ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যবরণ করে।আর এভাবেই শেষ হয় একজন বিতর্কিত ব্যক্তির জীবনাসন।

মূখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন কাজী লেন্দুপ দর্জি।


|
শীতকালে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য।


লেখার শুরুতে 'কাঞ্চনজঙ্ঘার' ছবি দিয়েছি। যা সিকিমে অবস্থিত। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পর্বতশৃঙ্গ 'কাঞ্চনজঙ্ঘা'। শীতকালে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা হতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। বাংলাদেশের তিস্তা নদীর উৎসও কিন্ত সিকিমে। ও আরেকজনের নাম বাদ যাচ্ছে তিনি হচ্ছেন ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। তিনি সিকিমের অধিবাসী।দক্ষিণ এশিয়ার সবচেযে সেরা ফুটবলার হিসাবে উনার নাম সবার আগে আসবে।

সিকিম আয়তনে ছোট হলেও (৭০৯৬ বর্গ কিঃ মিঃ যা রংপুর জেলার সমান), প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্যা। প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন সিকিম ভ্রমণ করতে।তাই ভারত সিকিমকে নিজেদের করে নিযে  ভূল করে নি। তারা     অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ভাবে বেশ লাভবান হয়েছে।


 


লেখক: রম্য রহিম।