টিভি খুললেই নিউজ হেডিং এ ভেসে আসে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ৭০, আহত ৬০।
নিহতদের বেশারভাগ নারী ও শিশু। এই হেডিং নিউজটা দেখতে দেখতে আজ আমরা যেন অভ্যস্ত
হয়ে পড়েছি। মূলত গত ২ বছর যাবৎ গাযায় এক গনহত্যা হচ্ছে। পুরো বিশ্ববাসী তা উপভোগ
করতেছে। পশ্চিমা বিশ্বে এটা নিয়ে কিছুদিন বিক্ষোভ মিছিল হয়। আবার কিছুদিন পর তা
থেমে যায়। আর আমাদের মতন কিছু তৃতীয় বিশ্বের অনারব মুসলিম দেশগুলোতে সব সময় এই
আগাসন ও গনহত্যার বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন আসে
গাজার আশে পাশে এত গুলো যে আরব রাষ্ট্র আছে তাদের ভূমিকা কী? গাজার অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যে। গাজার পাশে মিশর, জর্ডান,সউদি আরব, সিরিয়া, আরব আমিরাত, কাতার,
বাহরাইন,ইয়েমেন অবস্থিত। (আমি ইরানের কথা বলতেছি না কেননা ইরান আরব রাষ্ট্র নয়)
কিন্তু এক ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ছাড়া আর কারও কোন মাথা ব্যাথা নাই। তাহলে প্রতিবেশী
এই মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কী ঘুমাচ্ছে। তারা ঘুম থেকে কবে জাগবে নাকি আজীবন ঘুমিয়়েই
থাকবে। ফিলিস্তিনেও একজন প্রসিডেন্ট আছেন। তার নাম মাহমুদ আববাস। অবাক করা বিষয়
তাকে কখনও এই বিষয় নাক গলাতে দেখি নি। উনি পশ্চিম তীর নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। পূর্বে
ইয়াছির আরাফাত যেভাবে ফিলিস্তিন স্বাধীনতা নিয়ে পুরো বিশ্ব চষে বেড়াতেন আর উনি যে
ফিলিস্তেনের প্রেসিসেন্ট হিসাবে আছে এটাও অনেকে জানে না। এবার আরব বিশ্বের কথায়
আসি। তেল সমৃদ্ধ আরব রাষ্ট্রগুলো এই বিষয়ে কোন মাথা ব্যাথা নাই। কিন্তু কেন? কারণ
জানতে গেলে যেতে হবে পূর্বের আরব ইসরাঈল যুদ্ধ। আরব ইসরাঈল যুদ্ধ যতবার হয়েছে
ততবারই ভূমি হারিয়েছে আরবরা। মাত্র ৬ দিনের যুদ্ধে সম্মিলিত আরব দেশগুলো পরাজিত
হয়েছে। সিরিয়া হারিয়েছে গোলান মালভূমি। মিশর হারিয়েছে সিনাই। জর্ডান হারিয়েছে
পশ্চিম তীর। তাই আরব বিশ্ব আজ আর ইসরাঈলকে নিয়ে মাথা ঘামাতে চায় না ৷ পাছে আবার
তাদের আবার কোন ভূমি হাতছাড়া হয়ে যায়়।সিরিয়ায় বাশার সরকার পতনের পর ইতিপূর্বে
সিরিয়ার অনেক ভিতরে চলে গেছে ইসরাইলী বাহিনী। বলতে গেলে সামরিক ভাবে কোনভাবেই
ইসরাইলের সাথে কেউ পেরে উঠতেছে না। হামাস ইসরাইল যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে
সাধারণ ফিলিস্তিনরা।হামাস ২৩২৩ এ অক্টোবরের ঝটিকা আক্রমনে অনেকেই ভেবেছিল এই বার
বুঝি ইসরাঈলের পতন ঘটবে। আরব রাষ্ট্রগুলো হয়তো এগিযে আসবে। কিন্তু হামাসের অংকে ভূল
ছিল। আরবরা সেই আগের মতন নির্লিপ্ত ছিল এবং থাকবে। তাহলে সমধান কী ? প্রতিদিনই কী
২০০ -৩০০ ফিলিস্তিন মারা যাবে এটাই কী সমাধান। একসময়় ফিলিস্তিন বলে আর কোন জাতিই
থাকবে না। পুরো জাতি এই গণহত্যার শিকার হবে। হামাসের মতন একটি সংগধন যুদ্ধ করে
ইসবাইলের সাথে পেরে উঠবে না। কেননা ইসারাইলের সাথে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও
পশ্চিমা শক্তি। মূলত যুদ্ধ নয় বরঞ্চ কূটনৈতিক ভাবেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই
Diplomacy role টা কে play করবে। কবি তো এখানেই নীরব। আসলেই কবি নীরব। পূর্বের
ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা ইয়াছির আরাফাতের সাথে বিশ্বের সব দেশের নেতাদের সাথে সু
সম্পর্ক ছিল। আজ এশিয়়া তো কাল ইউরোপের কোন দেশের নেতার সাথে তাকে দেখা যেত।
কৃটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সফল হউক বা অসফল হউক বর্তমানের
গাজার মতন এত শোচনীয অবস্হা তো বিশ্ববাসী দেখে নি।সত্যি কথা বলতে মুসলিম বিশ্বে
প্রকৃত কোন নেতা নেই। সবাই ব্যাস্ত নিজেদেরকে নিয়ে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতন
নেতার আজ বরই অভাব। আনোযার সাদাত, ইয়াছির আরাফাতের মতন নেতা নাই। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের শক্তিশালী লবি আছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের
সময় ইসরাঈলকে সব Candicate সমীহ করে কথা বলে। ইসরাইল শুধু অস্ত্র ও প্রযুক্তি
দিয়েই বিশ্বে সেরা নয় কূটনৈতিক ভাবেও অনেক সফল। ইউরোপের প্রায় সকল দেশ ইসরাঈলের
সমর্থক। তাদের সমর্থনেই আজ এই Live গনহত্যা চলতেছে। আরব বিশ্বের কোন শক্তিশালী লবিং
যুক্তরাষ্ট্রে নেই। তাদের তেল আছে। আর এই তেল বিমানের ভরেই ইসরাঈল এই গনহত্যা
চালাচ্ছে। তাই আরবরা যদি তৈল বিক্রি একদিনের জন্য বন্ধ করে দেয় তাহলেও তারা
বেকয়দায় পড়়ে যেত। অপরদিকে মিশর তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়়েছে যাতে গাজার মানুষরা
খুব সহজেই গনহত্যার শিকার হয়।তাই এই গণহত্যায় মিশরও জড়িত। একদিন ধরে চলা এই
গনহত্যায় আজ পর্যন্ত কোন আরব দেশকে দেখলাম না উদ্যোগ নিতে গনহত্যা বন্ধ করতে। তাদের
এই স্বার্থপরতা স্বভাব তদেরকেই বিপদে ফেলে দিবে কেননা Greater lsrael এর যে
planning তা তারা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে। মিশর, সিরিয়া, জর্ডান, সউদি আরবের একাংশ
নিয়েই মূলত Greater Israel হবার স্বপ্ন। Israel এর প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে যেমন
এগিয়ে ঠিক তেমনি কূটনৈতিক ভাবেও সফল,বিশ্ব মিডিয়াও তাদের দখলে, বিশ্বযুদ্ধের তাদের
উপড় যে নির্যাতিন হয় তার উপড় ভিক্তি করে হলিউডে অনেক movie হয়েছে, এতে করে বিশ্ব
দরবারে তাদের প্রতি একটি সহানুভূতি থাকে, অথচ ফিলিস্তিন প্রতি বর্বরতা নিয়ে আজ
পর্যন্ত কোন movie মুসলিম বিশ্ব তৈরি করতে পারে নি।আমরা শুধুমাত্র আটোমান সাম্রাজ্য
নিয়ে বিভিন্ন টিভি সিরিয়াল বানাই কিন্ত ভুলে যাই তরবারী আর তীর ধনুকের যুগ অনেক
আগেই শেষ হয়ে গেছে, আর এই সব সিরিয়াল দেখে আমরা গর্ব করি, কিন্তুু এখন তথ্য
প্রযুক্তির যুগ,এই গুলো এখন শুধুই স্মৃতি। প্রতিটি ধর্মের বিভিন্ন শাখা উপশাখা আছে,
কিন্তু কখনও কী শুনেছেন ক্যাথলিক আর প্রটেষ্টান এর মারামারি করে মরতে কিংবো কোন
ইহুদী ধর্মীয় গোষ্ঠির ভিতর মারামারি করতে, কিন্তু আমাদের এই শিয়া সুন্নির দ্বদ্বের
যেন কোন শেষ নেই, কেয়ামত পর্যন্ত এই মারামারি চলবে, ইরান শিয়া প্রধান দেশ হওয়াতে
সউদি আরবের সাথে সাপে নেউলের সমর্পক, মধ্যপ্রাচ্যের কে মাতব্বরি করবে তা নিয়ে যে
দন্দ্ব তার যেন শেষ নেই, এই শিয়া সুন্নির যে দন্ব যতদিন চলবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি
ততদিন পর্যন্ত আসবে না, ওহ এত কথা লিখলাম একটা সংগধনের কথা না বললেই হয়, সংস্থাটির
নাম OIC (Organization of Islamic Cooperation ) আসলে যার Full Meaning হওয়া উচিত
oh! I see. আসলেই এই অর্থব সংস্থাটি কোন activities আমরা দেখি নি, প্রতিবছর একটি
সম্মেলন করে আর সম্মেলন শেষে ধনী আরব দেশের নেতারা সামনে দাড়িয়ে আর পিছনে গরীব
দেশের নেতারা দাড়িয়ে একটি ছবি তুলে পোজ দেবে, আর একটি ঘোষণা দিয়ে সম্মেলন শেষ
করবে, অখচ এই সংস্থাটি EU এর মতন অনেক active হতে পারতো। সুদান, সিরিয়া কিংবা শিয়়া
সুন্নি বিরোধ তা এই সংস্হা পারে সমাধান করতে, আসলে ঐক্য না থাকলে একটি জাতি সর্বত্র
মার খাবে, এটাই নিয়ম, সমর সম্মুখে যেহেতু দূর্বল তাই আন্তজাতিক মহলে শক্তিশালী লবিং
বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিং শক্তিশালী করতে হবে, বর্তমানে ইসরাইলের সাথে
সমরে যুদ্ধ করে কেউ আর ভূমি হারাতে চায় না, হিযবুল্লাহ যুদ্ধ করে তাদের ফ্রন্ট
লাইনের নেতাদের হারিযেছে, হামাস ২/১ টা রকেট ছুড়বে এতে ইসবাইলের কিছুই হবে না বরং
এর বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনি লাশ ঝড়বে, ফিলিস্তিনের যে পুতুল প্রেসিডেন্ট আছে তার
ভূমিকা বেশ রহস্যজনক, ওহ এক জনের নাম তো বলতে ভুলেই গেছি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট
এরদোয়ান, বছর চারেক আগে তাকে বেশ সোচ্চার দেখা যেত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কিন্তু এখন
তাকেও মুখ বন্ধ দেখতে পাচ্ছি, সম্ভবত পশ্চিমা কোন ঔষধ তিনি খেয়েছেন যাতে মুখ বন্ধ
থাকে। আজ ফিলিস্তিন নিয়ে Spain, South Atrica, Latin American দেশগুলো যে ভূমিকা
রেখেছে তার থেকেও আরব দেশগুলে শিক্ষা নিতে পারে। ঘড়ে বসে নিন্দা জ্ঞাপন বন্ধ করে
বিশ্ব দরবাবে গিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার হতে হবে না হয় Greater israel অংশ হতে
আর বেশী দিন বাকী থাকবে না।
Comments
Post a Comment