শিশুদের সামনে যে আচরণগুলো ভুলেও করবেন না।


পারিবারিক অশান্তি সন্তানদের মানসিক বিকাশের প্রধান অন্তরায়।


সন্তান হল মহান আল্লাহ পাকের বড় নেয়ামত। প্রত্যেক মা বাবাই চায় তার সন্তান মেন বড় হয়। শিক্ষা দীক্ষায় সবার থেকে সেরা হয়। একটি সন্তান পালন করতে বাবা মা উভয়কেই প্রচুর কষ্ট করতে হয়। বাবাকে সন্তানের ভরন পোষনের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করতে হয় ঠিক তেমনি মাকেও ছোট্ট বেলা থেকে সন্তানকে বেড়ে তোলার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়। বলতে গেলে জীবনের একটি অংশ শুধু চলে যায় শুধু ছেলে মেয়েদের মানুষ করতে।

এত কষ্ট করার পরেও সেই সন্তান কেন জানি তাদের মন মতন হয় না।মা বাবার করা কিছু ভূল সেই সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ করতে পারে না।

এর জন্য দোষটা কার, মা নাকি বাবার।

শিশুরা অনুকরণীয় প্রিয়। বাবা মা যা করবে ছোট্ট বেলা থেকেই তা শিখবে। মা বাবার আচরণে এমন কিছু ভুল থাকে যা থেকে শিশুরা ভূল শিক্ষা পায়। পিতা মাতার এত কষ্ট সন্তানকে বড় করে মূলত তারা যেন বড় হয়ে ভাল ১টি সরকারী চাকরী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা ভাল ১ জন ব্যবসায়ী হয়, শুধুমাত্র ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বানানের উদ্দেশ্যেই সকল পিতা মাতার একমাত্র লক্ষ্য মাকে, কিন্তু তা ছাড়াও যে একজন ভাল মনের মানুষ বানানো যেন গৌন উদ্দেশ্য  থাকে। 

শিশুদের সামনে বড়দের অনেক আচরণই তাদের মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। কিছু বিষয় আছে যা শিশুদের সামনে করা উচিত নয়:


❌ শিশুদের সামনে মানা কিছু আচরণ:


🚫গালাগালি ও মারধর: 

আমাদের ভিতরে এমন অনেকই আছে যারা অন্যদের গালি গালাজ করতে ভালবাসি। আমাদের ভিতর অনেকেই আছে উগ্র মেজাজের। বাইরে থেকে বাসায় এসে বিভিন্ন বিষয় বকাঝকা সাথে গালি গালাজ করি, এর প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপড়, অনেক বাবারা আছে সন্তানের সামনেই তার মাকে গালিগালাজ করে, এতে করে সন্তানের মাকেই সন্তানের সামনেই ছোট করা হয়। ফলে মায়ের প্রতি সন্তানের যে সম্মান তা কমে যায়। মায়ের অনেক কথাই সন্তানরা শুনতে চাঁয় না। বকা ঝকা দিলেও তা আমলে নেয় না। ফলে সন্তানরা বিগড়ে যেতে শুরু করে। আবার অনেক বাবারা আছে যারা সমান্য বিষয় সন্তানের সামনে তার মায়ের গায়ে হাত তুলে যা সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই বাবার প্রতি বিদ্বেষী করে তোলে।ভবিষ্যৎ এ  সন্তানটি হয়তো নিজের বউকে পিটাবে। তাই ভূল করেও বাচ্ছাদের আমনে এই ভূল করবেন। গালিগালজ শুধু বাবারা করেন না অনেক মায়েরাও করে থাকেন। অনেক মায়েরা আছে সব সময় খিট খেটে মেজাজের হয়। যা সন্তানের সুস্থ মানস মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।ছোট বেলা থেকেই সন্তানরা যদি গালি গালাজ শিখে ফেলে, পরবতীতে সেও বড় হয়ে অন্যদের গালিগালাজ করে এবং এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়।পারিবারিক অশান্তি সন্তানদের সামনে করা উচিত নয়।

বাবা-মা বা অন্যদের ঝগড়া, গালি-গালাজ বা শারীরিক সহিংসতা শিশুর মনে ভয়, রাগ ও হিংস্রতা তৈরি করে। তাই শুধু পড়া লেখা কড়ালেই সন্তানরা বড় হবে না সন্তানের স্বাভাবিক গ্রোথের জন্য দরকার পারিবারিক সুস্থ ও স্বাভবিক পরিবেশ।

🔞 পোশাক পরিবর্তন বা ব্যক্তিগত কাজ অশ্লীল আচরন:

অনেকেই আছে সম্তানদের পোশাক পরিবর্তন করেন যা মোটেও উচিত নয। বড়রা যখন পোশাক পরিবর্তন করে সন্তানের আঢ় চোঁখে তাকিয়ে থাকে। তাই  পোশাক পরিবর্তন সময অন্য রুমে গিযে তা পরিবর্তন করা উচিত। সন্তানের  সামনে বাবা মার শারিরীকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া মোটেও উচিত নয়।পোশাক পরিবর্তন, দাম্পত্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত এসব শিশুদের সামনে করা উচিত নয়।

দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা, অশ্লীল মজা বা শরীর সম্পর্কিত খারাপ মন্তব্য করা উচিত নয়।এতে শিশুর কৌতূহল ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা অকাল যৌন সচেতনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

🚭 মাদক বা সিগারেট খাওয়া:

অনেকেই আছে যারা সিগারেট বা মাদকে আসক্ত। অনেকে তো হচ্ছে চেইন স্মোকার। সন্তানদের সামনে সিগারেট খেলে স্বাগবিক ভাবে তাদেরও ইচ্ছা জাগবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে মনে। একটু বড় হবার পর বাবার পকেট থেকে সিগারেট চুরি করে খাবে। আর সিগারেটের পর কী ধরবে তা তো সবারই জানার।

সিগারেট, মদ বা অন্য মাদক ব্যবহার করলে শিশুর মনে এগুলো স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে গেঁথে যায়।

🚫অন্যকে অসম্মান করা:

বয়স্কদের অসম্মান, নিজ মা-বাবার প্রতি খারাপ ব্যবহার করা, অন্যের কাজে প্রশাংসা  না করে উন্টো সমালোচনা করা, মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি সন্তানের কাছে ভূল মেসেজ পৌছে দেয়। নিজের মা বাবাকে অসম্মান করলে বড় হয়ে আপনাকেই  অসম্মান করবে। শুধু নিজের মাবাবা নয় অন্যের মা বাবাকে অসম্মান করা উচিত নয়।  

🚫মিথ্যা বলা ও প্রতারণা: 

শিশুদের সামনে মিথ্যা বলা একেবারেই উচিত নয়, এতে করে সেও শিখে ফেলে কীভাবে মিথ্যা বলে প্রকৃত সত্য চাপাঁ দেওয়া যায়। একজন মিথ্যাবাদী পরবর্তীতে একজন প্রতারক হতে পারে।

শিশু শিখে নেয় যে মিথ্যা বলা স্বাভাবিক, এবং তারাও এই অভ্যাসে জড়িয়ে পড়


📵অতিরিক্ত মোবাইল/টিভি ব্যবহার:

বাচ্চাদের মোবাইল ধরতে দেওয়া নিষেধ কিন্ত বাচ্চাদের জেদের কারনে না দিয়েও পারা যায় না। অনেক সময় অশালীন কনটেন্ট, সহিংস কার্টুন বা অশ্লীল সিনেমা শিশুদের মোবাইলে চলে আসে তাদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

🙀হতাশার চরম প্রকাশ

জীবন নিয়ে বারবার হতাশ হওয়া, আত্মহত্যার কথা বলা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা প্রকাশ শিশুদের সামনে করা উচিত নয় যা শিশুদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আপনি হতাশ হলে আপনার বাচ্চারা তো হতাশ হবেই।


🔥মূল কথা: শিশুরা যা দেখে তাই শেখে। তাদের সামনে যেকোনো আচরণ করার আগে ভাবতে হবে – "এটি দেখে কি সে ভুল কিছু শিখবে?"




লেখক: রম্য রহিম।





Comments