
ফুল নিবে কিনা অশ্রু নিবে বন্ধু।
ছোট ভাই সজীব বাজার থেকে বাড়ি ফিরতেছিল, সামনে বড় ভাই সজলকে পেয়ে গেল, কিছু বুঝার আগেই বড় ভাই ছোট ভাইয়ের গালে একটা সজোরে একটা চড় বসিয়ে দিল।বড় ভাইয়ের সাথে সজীবের কোন সমস্যা নেই। তাই আচমকা চড় খেয়ে একটু হতভম্ব হয়ে গেল। সজল চড় দিয়ে দ্রত সড়ে গেল। সজীব কী করবে বুঝতে পারলো না। কিছুক্ষন লাগলো স্বাভাবিক হতে। তারপর দ্রত পাঁ চালালো বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাড়িতে ঢুকতেই বাবাকে পেয়ে গেল। সজীবের বাবা আবার ঝানু ব্যাবসায়ী, ব্যাবসা আর টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেন না উনি। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে ভাইয়ের নামে বিচার দিল। গম্ভীর মুখে বড় ছেলের কাহিনী শুনলেন। উনার বড় ছেলে সজল একটু উগ্র টাইপের, প্রায়ই তার নামে বিচার আসে, মারামারি- হাতাহাতি করা তার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে প্রথমে বিরক্ত হলেও এখন কিছুটা ভালই লাগে, কেননা তিনি নিজেও কিছুটা দখলদার প্রকৃটির। আর এসব কাজে তার বড় ছেলের মতন একজন লোক দরকার। যাই হউক ছোট ছেলের কাঠে হাত রেখে বললেন" কিছু মনে করিস না বাবা, বড় ভাই মেরেছে তো, এগুলো কিছু না, বড়রা মাঝে মাঝে ছোটদের মারে, তুই ভুলে যা বাবা, ভূল করে হয়তো মেরেছে, আমি বলে দিব আর মারবে না, আর মারলেও আগে থেকে বলে মারবে" এই বলে সজীবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন "রাতে বাজার থেকে আসার সময় আমার জন্য একটা বড় দেখে রুই মাছ নিয়ে আসিছ। গত পরশু দিন যেটা আনছিল ওর থেকে একটু সাইজের যেন বড় হয়", আর তোর বড় ভাইয়ের কথা ভাবিস না, ও আর এগুলো করবে না, আমি বকে দিব। আশ্বস হয়ে খুশি মনে চলে গেল সজীব।
ফুল নিবে কিনা অশ্রু নিবে বন্ধু।
উপড়ের চরিত্রগুলো রুপক অর্থে ব্যাবহার হলেও সবাই বুঝে গেছেনে আসল নাম গুলো কী কী হতে পারে।
জ্বী, এরকমই একটা ঘটনা ঘটেছে গত ৯ সেপ্টেম্বরে। হামাসের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে চলমান গাজার গণহত্যা বন্ধে একটা শান্তি বৈঠকের সময ইসরাইল আকস্মিক বিমান হামলা চালায়, কাতার মাকিন অন্যতম ঘনিষ্ট মিত্র, আবার ইসরাইলের সাথে তার কোন তিক্ত সম্পর্কও নেই, বলতে গেলে Safe zone থাকা একটা রাষ্ট্র। আবার কাতারে রয়েছে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাটি। তাই হঠ্যাৎ ইসরাইলী এই আক্রমণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সব আরব দেশগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে তাহলে কী তারা দুধ কলা দিয়ে সাঁপ পুষতেছে।
এই বছরের সময়ে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যেন ঈদ উৎসব শুরু হয়ে গেছিল। ট্রাম্পকে খুশি করতে আরব রাষ্ট্রগুলো যেন প্রতিযোগীতায় নেমে গেছিল।যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে প্রায় $১৪২ বিলিয়ন (USD) মূল্যের একটি অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সেবা-চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তিটি বলা হচ্ছে “ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা বিক্রির চুক্তি” (largest defense cooperation agreement) হিসাবে। এই প্যাকেজে বেশ কিছু ইউএস প্রতিরক্ষা কোম্পানিই যুক্ত থাকবে এবং সে কোম্পানিগুলো বিভিন্ন ধরন ও প্রযুক্তির অস্ত্র ও সেবার সরবরাহ করবে।সউদি আরব বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার চুক্তি করে ফেললো, এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দিয়ে সউদিরা কী করবে। তারা কী ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলের বিপক্ষে যুদ্ধ করবে নাকি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আদৌতে কোনটাই নয়, তারা এই অস্ত্রগুলো কিনেছে মূলত ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য।আর কাতারতো ট্রাম্পকে উপহার হিসাবে দিয়েছে ৪০০ কোটি ডলারের বিমান। সেই সাথে প্রায় $42 বিলিয়ন মূল্যমানের সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করেছে।
তো এত কিছু দেবার পরও বড় ভাইয়ের কাছে চড়টি কেন খেতে হল? পশ্চিমা দেশগুলোর কাজ হলো চোর কে বলে চুরি করো,আবার ঘরের মালিক কে বলে সজাগ থাকো, ঘরে চুরি হতে পারে। মূলত পৃথিবীতে সব অশান্তি সৃষ্টি করার মূলে রয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। কাতার বলতেছে ইসরাইলী এই আক্রমনের পরে মার্কিনরা কাতারকে আক্রমনের কথা জানায়, আমার যুক্তরাষ্ট্র বলতেছে একটু আগে জানিয়েছে, আচ্ছা একটু আগে জানাক বা একটু পড়ে জানাক, আক্রমনটা কেন হল আর কোথা থেকে হল। ইসরাইল থেকে কাতারের দূরত্ব ১৭০০ কিঃমিঃ। তাই এত দূর থেকে এসে কাতারকে আক্রমন করা এত সোজা নয়, তাহলে আক্রমনটা হল কোথা থেকে। ইসরায়েল মূলত লোহিত সাগর থেকে পাঠানো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে কাতারের দোহায় অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কাতার ও ইসরাইলের যে দূরত্ব ইসরাইলের পক্ষে সরাসরি ইসরাইল থেকে আক্রমণ করা সম্ভব নয়। তাই তাকে লোহিত সাগর থেকে আক্রমণ করতে হয়েছে।কাতারের রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির রাডার ব্যাবস্থা। কিন্তু তাদের রাডার এই বিমান আক্রমণ ধরা পরে নি। তাহলে তারা এত বিলিয়ন বিলিয়ন অস্ত্র কিনে লাভ কী হল। আমারতো মনে হয় এই অস্ত্রের চাবিও পশ্চিমাদের কাছে, হয়তো অনেক শর্ত আছে এইসব অস্ত্রের ব্যবহারে।
| লোহিত সাগর থেকে হামলা করা হয়। |
অনেক আরব রাষ্ট্র, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রায় সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। কাতার ছাড়াও, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, সংযুক্ত আরব আমিরাত উন্নত আমেরিকান এবং ফরাসি বিমান, এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র ঢালে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর রয়েছে, এবং কুয়েত আমেরিকান লজিস্টিক্যাল এবং গোয়েন্দা সহায়তার উপর নির্ভরশীল।বলতে গেলে আরর রাষ্ট্রগুলো সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষার সব দায়িত্ব দিয়ে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, শুধু বড় বড় সামরিক ও অস্ত্র চুক্তিই করেছে। বলতে গেলে সমগ্র আরর রাষ্ট্রসমূহকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক প্রকার ঘিরে রযেছে। যে পরিমান টাকা দিয়ে অস্ত্র কিনেছে সেই টাকা যদি গবেষণা ও নিজেদের সামরিক বাহিনীকে উন্নত করতো তাহলে আজ এই চড়টি খেতে হত না। ইরান যেভাবে সীমিত সামর্থ্যের ভিতর দিয়ে এত নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র উৎপাদান করেছে তা বিস্ময়কর।ইসরাইলী ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা প্রতিহত করে উল্টো ইসরাইলকে এত দূর থেকে বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র হামলা করে ইসরাইলকে যেভাবে কাপিয়ে দিয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। এই সময় যদি আরব বিশ্ব ইরানকে সাহায্য করতো তাহলে ইসরাইলের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যেত। কিন্তু কোন আরব দেশগুলোতো তা করেই নি বরং নিজেদের আকাশ সীমা খুলে দিয়েছিল ইরানকে আক্রমণ করার জন্য। তারা মনে প্রাণে চেয়েছিল যেন ইরানের পরাজয় ঘটে। কিন্তু ইরান আক্রান্ত হলেও ভালভাবে ঘুড়ে দাড়িয়েছিল। এই যুদ্ধে ইরানের পরাজয় ঘটলে পুরো মুসলিম বিশ্বেরই পরাজয় ঘটতো, ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার আর কেউ থাকতো না। গাজাতে চলমান গণহত্যা নিয়েও আরব বিশ্বের কোন মাথা ব্যাথা নেই, এটা যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে তাদের কাছে, আজকে গাজা দখল করলে কালকে যে নিজেরাই ভূমি হারাবে এই সহজ ধারনাটাই হয়তো কারও মনে নেই। ইসরাইল তাদের স্বপ্নের 'Greater lsrael' concept নিয়ে আস্তে আস্তে এগোচ্ছে। আরবরা বিদেশী সৈন্য ভাড়া করে নিজ দেশ রক্ষা করবে ধারন ধারনাটা ভূল, বলতে গেলে খাল কেটে তারা কুমির আনছে। এক প্রকার তারা নিজেরাই নিজেদের পারে কুড়াল মেরেছে। এই কুড়ালটা তারা সর্ব প্রথম মারে ইরাক যুদ্ধে। সাদ্দাম হোসেন যখন কুয়েত দখল করে তখন আরবদের মনের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস বেকার ঢুকিয়ে দিলো এবার আপনাদের পালা। আর আপনাদের নিরাপক্তার দায়িত্ব আমাদের। সাদ্দামের এই আক্রমণ যে পশিমাদের জন্য আর্শিবাদ স্বরূপ ছিল।তারা তড়িঘড়ি করে মুক্তরাষ্ট্রকে ঢেকে এনে মার্কিন ঘাটি স্থাপন করলো। আর যুক্তরাষ্ট্রও মওকা বুঝে থেকে গেল। সেই যে একবার সিন্দাবাদের ভূতের মতন সওয়ার হল আর যাবার নাম নেই। একদিকে আরব দেশগুলো পশ্চিমাদের থেকে এক প্রকার প্রতিযোগীতা করে অস্ত্র কিনতেছে আবার ভাড়াটে সৈনা রেখে দিয়েছে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য। এত কিছুর পরও পশ্চিমাদের মন পেল না। কাতার আক্রমণের পর শুধু মুখে মুখে নিন্দার ঝড়, এর বেশী কিছু নয়। জাতিসংঘের নিরাপক্তা পরিষদে যে নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে ঐ খানে কেউ ভয়ে ইসরাইলের নামই উচারণ করে নি। how funny that!.. কাতার আক্রমনের পর সবাই আরব নেটো গঠনের কথা ভাবতেছে, এই ভাবা ভাবি, উদ্বেগ, নিন্দা, ক্ষোভ প্রকাশ, এগুলো করেই দিন যাবে। আদৌতে কিছুই হবে না।পশ্চিমারা কখনই তা করতে দিবে না। কেননা পুরো আরব দেশ গুলোতে মার্কিন ঘাটি রয়েছে। খোঁদ কাতারেই রয়েছে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাটি। আর ২oo৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় আরব দেশগুলো যেভাবে ইঙ্গ মার্কিন গ্রুপকে মহায়তা করেছে তা ভুলার নয়। আরব দেশগুলোর ভূমিকা একটু সংক্ষিস্তকারে লিখলাম।
কুয়েত – মিত্রবাহিনীর জন্য ঘাঁটি দেয়, আক্রমণের মূল লঞ্চপ্যাড ছিল।
সৌদি আরব – প্রথমে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তবে সীমিত লজিস্টিক সহায়তা দেয় (যেমন আকাশপথ ব্যবহার)।
কাতার – আল-উদেইদ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয় (আমেরিকার প্রধান এয়ারবেস হয়েছিল)।
বাহরাইন – মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটকে আশ্রয় দেয়।ইউএই ও ওমান – সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
তুরস্ক (যদিও আরব নয়) – সংসদ মার্কিন স্থল আক্রমণের অনুমতি দেয়নি, তবে আকাশপথ ব্যবহারে আংশিক সহায়তা করেছিল। অর্থ্যাৎ একটা আরব রাষ্ট্র ধ্বসে সবাই মিলে পশ্চিমাদের সহায়তা করলো। How funny বললেও কম হবে। কোথায় সবাই মিলে ইরাককে Save করবে তা না করে উল্টো সবাই মিলে একটা আরব রাষ্ট্র ধ্বংস করলো। কালকে ইরাককে ধ্বংসে সহায়তা করেছো আজ নিজের ঘড়েই হামলা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে প্রকৃতির রিভেঞ্জ। কাতারের আক্রমণের পর নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছে, কেননা গাজা গণহত্যা নিয়ে আরবদের ভূমিকা খুবই হতাশ জনক।
| গতকালও ছিলেন এই বাড়ির মালিক আজ তিনি 'উদ্বাস্ত'। |
| পশ্চিমতীরের আর অবশিষ্টংশ বলতে কিছুই নেই। |
| বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে ফিলিস্তিনি বসতি। |
Comments
Post a Comment