একটা মশার আত্বকাহিনী:
আমি একজন মশা। মশা হয়ে এই পৃথিবাতে এসেছি। আয়তনে আমরা অতি ক্ষুদ্র, মাত্র ২ মিলিগ্রাম ওজনের প্রাণী আমরা। এই ধরনীতে আমাদের সংখ্যা কত তার কোন হিসেব নেই। প্রতিদিন আমাদের মশকসংখ্যা বাড়ে আবার কমে। বলতে গেলে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। এই ধরনীর মানুষেরা আমায় বেশ ভয় পায়। আমাদের মারার জন্য কয়েল, স্প্রে,কত কিছু ব্যাবহ্নার করে কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হয় না। আমাদের হাতে কত মানুষ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে তার কোন হিসাব নেই। কুইনাইন নামক ওষুধ আবিষ্কারের পূর্বে একটি সময় আমাদের আমাদের ছড়ানো ম্যালেরিয়া রোগে কোটি কোটি লোকের প্রাণ গেছে। এখন অবশ্য ডেঙ্গু নামক রোগ বিস্তারে আমরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করতেছি। এই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কত হাজার হাজার লোকের প্রাণ গেছে তার কোন ইয়াক্তা নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কেউ সুস্থ হচ্ছে আবার কেউ হচ্ছে না। মানুষের রক্ত পান করতে আমাদের খুব ভাল লাগে। সন্ধার সময় পড়তে বসলে কানের সামনে আমাদের গান শুরু হয়ে যায়, সাধারনত মানুষের কানের সামনে গান শুনাতে আমাদের বেশ ভাল লাগে। এই গানের অবশ্য সুরকার আর গীতিকার বলে কেউ নেই। আমাদের জম্ম ময়লা ডোবা, নালা,জমে থাকা ফুলের টব বা বাটিতে। আমাদের বংশ বিস্তারে মানুষের সহযোগীতা ভুলবার নয়। ওহ একটা কথা লিখতে ভূলে গেছি আমাদের ভিতরে স্ত্রী মশারাই শুধু মানুষের রক্ত পান করে অর্থ্যাৎ পুরুষ মশারা নীরিহ। এই লেখাটা যখন লিখতেছি বেশ কয়েকটা মশা আমার কানের সামনে এসে তাদের গান শুনিয়ে গেছে। এই পৃথিবী প্রানের উৎস যতদিন থাকবে ততদিন মশাও ততদিন থাকবে। আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাণী অথচ কোন দেশ আমাদেরকে জাতীয় প্রাণী বলে ঘোষণা দেয় না, বাঘ, সিংহ, হরিণ ইত্যাদি প্রাণীকে প্রায় সবদেশ জাতীয় পশু বলে সিলেক্ট করে ৷ অথচ আমরা বরাবর অবহেলিত। আজ এই পর্যন্ত।
লেখক : জিল্লুর রহমান।
Comments
Post a Comment