ভাসানী থেকে ওসমান হাদীঃ

 ভাসানী থেকে ওসমান হাদীঃ


  


আজ হঠ্যাৎ করেই একটা লেখা না লিখে পারলাম না। সদ্য প্রয়াত ওসমান হাদীকে নিয়ে। আমি সাধারণত রাজনৈতিক লেখা লিখি না। কিন্ত ওসমান হাদীর সাথে এই দুঃখ বিদায়ক ঘটনার পর না লিখে পারলাম না। গত ১৮ই ডিসেম্বর তিনি এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। অত্যন্ত মেধাবী এই জুলাইয়ের সম্মুখ সারীর  যোদ্ধা মৃত্যর আগে পর্যন্ত ছিলেন আপষহীন, আগ্রাসন বিরোধী ।

আমরা সবাই মাওলানা ভাসানী সম্পর্ক জানি, অত্যন্ত বিনয়ী, সৎ, আপোষহীন ও ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী একজন জননেতা ছিলেন তিনি। চীনারা ডাকতো উনাকে রেড মাওলানা বলে।পাকিস্তান শাসন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানী শাসন গোষ্ঠী আর দেশ স্বাধীনতার পর ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সব সময় সোচ্চার। ফারাক্বা বাধ নির্মানের বিরুদ্ধে তার আন্দোলনের কথা ভুলবার নয়। অধিকারবঞ্চিত, নিপীড়িত ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সংগ্রাম করে যাওয়া এই জননেতা জাতীয় সংকটমুহূর্তে জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সাদাসিধে জীবনযাপন, নিঃস্বার্থ মনোভাব এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। শোষণমুক্ত, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তার ভূমিকা এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ভাসানীর সাধারণ জীবন যাপন।

কখনও কোন অন্যায়ের সাথে মাথা নত করেননি তিনি। কোন লাভের আশায় তিনি রাজনীতি করেন নি। 'ওরা কেউ আসেনি' এটা ছিল তার একটি বিখ্যাত উক্তি। ১৯৭০ সালে দেশের উপকূলে বিশেষ করে ভোলাতে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়় হয় পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে যে অবহেলা করে তা নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য তার এই মন্তব্যটি কিন্তু পরবতী ৭০ এর নির্বাচনে বেশ বড় ভূমিকা রাখে। উল্লেখ্য এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের মৃত্য ঘটে।যা 'ভোলা সাইক্লোন' নামে পরিচিত। এত বড় দূর্যোগের পরও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কেউ দেখতে আসে নি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন কালে তার বিখ্যাত মন্তব্যটি করেন। ভাসানী এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি পাকিস্তান ও ভারত কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে ছাড়েন নি। বলতে গেলে বাংলাদেশ স্বার্থ বিরোধী যে কোন কর্মকান্ডে তিনি ছিলেন সোচ্চার। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন, সফেদ পাঞ্জাবী ও একটি লুঙ্গি ছিল প্রিয় পোষাক।

ইনসাফ ভিক্তিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন। সবার কাছে তাই তিনি মজলুম জননেতা নামে পরিচিত।

ফারাক্বার ঐতিহাসিক লং মার্চ।

কেন সে এই নির্মমতার শিকার হল আর মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর সাথে তার কী সম্পর্ক তা নিয়ে আজ এই লেখা। লেখার শিরোনামই ছিল ভাসানী থেকে হাদী। হাদীর মৃতার সাথে ভাসানীর কী সম্পর্ক।

জুলাই ২৪শের পর টিভিতে টকশোতে একজন অল্প বয়সী ছেলেকে প্রায়ই সাহসী মন্তব্য করতে দেখা যায়। কাজের ব্যাস্ততার জন্য কোন কিছু আর ওভাবে দেখা হয় না। ১২ ই ডিসেম্বর হঠ্যাৎ শুনলাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মূখপাত্র ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল টিভিতে শুনতে পেলাম তিনি আর আমাদের মাঝে নাই। আজ সারাদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপে হাদীর বিভিন্ন বক্তব্য দেখলাম। হাদীর কথা গুলো শুনে আমার সেই মাওলানা ভাসানীর কথা মনে পড়লো। মাওলানা ভাসনীর মতই তাকে কাউকে ছাড় দিতে দেখলাম না। যে দলের লোক হউক না কেন দেশের স্বার্থ বিরোধী যে কোন বিষয়ে তার সাহসী কন্ঠস্বর শুনে মনে পড়ে গেল মাওলানা ভাসানীর কথা।তাকে নিয়ে আর বিশেষ কিছু বলবো না, আসলে আর কিছু লিখতেও ইচ্ছে করতেছে না। শুধু বলবো আমরা আরেকজন মাওলানা ভাসানীকে হারালাম। মাওলানা ভাসানীর মৃত্যর পর আমরা ওনার মতন নেতা আর পাই নি। হাদীর ভিতর উনার সেই ছায়া দেখতে দেয়েছিলাম। খুব অল্প সময়ের ভিতর তিনি পেয়েছিলেন অনেক জনপ্রিয়তা।

 হাদীর মৃত্যর তার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে আমি সত্যিই অবাক। হাদীর মৃত্যর পর তার প্রতি মানুষের ভালবাসা দেখে বুঝলাম আমাদের দেশে একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক নেতার বড়ই অভাব।ঘাতকরা একজন হাদীকে হত্যা করলেও লক্ষ লক্ষ হাদীকেই জন্ম দিয়ে গেছে। ওপাড়ে ভাল থাকবেন প্রিয় ওসমান হাদী ভাই।

টেবিল ক্লকে বিভিন্ন ভূমিকায় ওসমান হাদী।






Comments